Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিস্ফোরক কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ, দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা

বিস্ফোরক কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক মনোজ,  দলীয় পদ ছাড়ার ঘোষণা
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: জন বারলার পর মনোজ ওরাওঁ। ডুয়ার্সে গেরুয়া শিবিরে বিদ্রোহের সুর ক্রমেই চড়ছে। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় বোমা ফাটালেন কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। তাঁর তোপ, নেতৃত্বের একাংশ ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে মরিয়া। কর্মীদের ভাবাবেগে আঘাত করে বিজেপি’র কিছু নেতা স্রেফ চাটুকারিতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। নেতৃত্বের প্রতি কার্যত অনাস্থা জানিয়ে দলের সমস্ত পদ ছাড়ার কথাও ঘোষণা করেছেন কুমারগ্রামের এই ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ওই পোস্ট সামনে আসতেই তুমুল ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। পদ্মপার্টিকে একহাত নিতে ছাড়েননি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা দলেরই প্রাক্তন সাংসদ জন বারলাও। তাঁর তোপ,পদ্মপার্টির ঘরে আগুন লেগেছে। এবার দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠার অপেক্ষা। আমি তো আগেই বলেছিলাম, ডুয়ার্সে বিজেপির পতনের দিন এসে গিয়েছে। কুমারগ্রামের বিধায়কের বক্তব্যের রেশ টেনে প্রাক্তন এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আক্রমণ, সংগঠন নয়, বিজেপি নেতাদের এখন একটাই টার্গেট আখের গোছানো। দিল্লি থেকে যে টাকা আসছে, কীভাবে তা লুটেপুটে খাওয়া যায়, সেই চেষ্টাই চলছে। বিজেপিকে কেন ডুয়ার্সের মানুষ ভোট দেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বারলা।  

Advertisement

সোশ্যাল মিডিয়ায় কুমারগ্রামের বিজেপি বিধায়কের বিদ্রোহ নিয়ে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ তথা দলের জেলা সভাপতি মনোজ টিগ্গা বলেন, দিল্লিতে রয়েছি। কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে ওঁর সঙ্গে কথা বলব। বিজেপি সূত্রে খবর, দলের জেলা সভাপতি হওয়া নিয়ে ঘরোয়া কোন্দলের জেরেই মনোজ ওরাওঁয়ের এই বিদ্রোহ ঘোষণা। এদিনের পোস্ট নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি 
ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ জোনের কনভেনার দীপক বর্মন। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরই মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন মনোজ। চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। 
২০১৪ সালে কুমারগ্রাম বিধানসভা উপ নির্বাচনে আরএসপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন মনোজ ওরাওঁ। তারপর ২০১৬ সালে তৃণমূলের জেমস কুজুরের কাছে হেরে যান। ২০১৭ সালে দিলীপ ঘোষের হাত ধরে যোগ দেন বিজেপিতে। ২০২১ সালে পদ্মপার্টির প্রার্থী হিসেবে হাজার দশেক ভোটে জিতে কুমারগ্রামের বিধায়ক হন। দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। শোনা যাচ্ছিল, এবার বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি হতে পারেন তিনি। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এদিনের পোস্ট সেই জল্পনায় জল ঢেলে সামনে এনেছে গেরুয়া শিবিরে বিদ্রোহের ছবি। যেভাবে দল চলছে, তাতে আসন্ন বিধানসভা ভোটে ডুয়ার্সে বিজেপির ভরাডুবি যে নিশ্চিত, কার্যত তারই ইঙ্গিত দিয়ে কুমারগ্রামের বিধায়কের মন্তব্য, আলিপুরদুয়ারে এবার ফল খারাপ হলে তার দায় নিতে হবে চাটুকারিতাকে প্রাধান্য দেওয়া নেতাদেরই। এই পরিবেশে দলের কোনও দায়িত্বে 
থাকতে পারছি না। সাংগঠনিক সব পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। তবে 
একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে বিজেপিতে থাকব। - ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ