সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: প্যাকেটে কুলফির ছবি। দেখেই জিভে জল আসবে। ভ্যাপসা গরমে একটু গলা ঠান্ডা করতে দুধ মালাইয়ের এই সুস্বাদু কুলফি খেতে ইচ্ছা করবেই। কিন্তু ছবি দেখে বিশ্বাস করলেই ঠকবেন। কারণ এই কুলফি ঠান্ডা করবে না। উলটে গরম বাড়াবে। কারণ এই কুলফি খাওয়ার জন্য নয়, আদতে এটি এক ধরনের বাজি। দুধ, মালাই ও বরফ নয়, ভিতরে রয়েছে বারুদ ও মশলা। এর মাথায় আগুন দিলেই তুবড়ির মতো উঠবে আর চারদিক আলোকিত করবে। এবারের চম্পাহাটির হারালের বাজি বাজারে নয়া চমক এই কুলফি বাজি। ক্রেতারা দোকানে সাজানো কুলফির প্যাকেট দেখে দোকানিদের জিজ্ঞাসা করছেন, এটা কি বাজি? এমন বাজি হতে পারে, বিশ্বাসই হচ্ছে না কারও।
শুধু কুলফি নয়, এবার হারালের বিভিন্ন দোকানে দেখা গেল হরেক রকমের নয়া বাজি। তবে মিল একটাই। আগুন দিলে হয় রং মশালের মতো আলোর রোশনাই হবে, নাহলে তুবড়ির মতো উপরের দিকে ফুলকি উঠবে। নয়া বাজির মধ্যে এবার নজর কেড়েছে লুডো, ফটো ফ্ল্যাশ, মিঁয়া-বিবি, পদ্ম, ব্যাট-বল সহ একাধিক বাজি। আর কুংফু বাজির বৈশিষ্ট্য হল, সলতেতে একবার আগুন ধরালেই কালীপটকার চেনের মতো পরপর ফাটতে থাকবে। মিঁয়া-বিবি বাজি একটু অন্য ধরনের। দু’টি বাজি একটি সলতে দিয়ে বাঁধা। আগুন লাগলে দু’টি মিলে টানাটানি করবে ঠিক দড়ি টানাটানির মত। ব্যাট-বল হল রং মশালের উন্নত সংস্করণ। হ্যান্ডেলে আগুন লাগাতে হবে। তাহলেই চারদিক আলোকিত হবে। লুডো কিংবা পদ্ম বাজি তুবড়ির মত জ্বলবে। ফটো ফ্ল্যাশ হল, ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় যেমন ফ্ল্যাশ আলো জ্বলে, এটাও ঠিক তেমনই, দাবি বিক্রেতাদের।
সোমনাথ নস্কর নামে এক বাজি ব্যবসায়ী বলেন, মানুষ এখন দোকানে ঢুকে নতুন কী বাজি এসেছে, তার খোঁজ করেন। তাই বিভিন্ন ধরনের বাজি রাখতে হয়। চিরাচরিত তুবড়ি, রং মশালের মতো বাজির চাহিদা আছে ঠিকই। কিন্তু তার চেয়ে ফ্যান্সি বাজির প্রতি আগ্রহ বেশি সবার। কালীপুজোর আগে এদিনই ছিল শেষ রবিবার। সকাল থেকেই ভিড় উপচে পড়ে হারাল বাজারে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটে আটকে পড়ে বহু গাড়ি। প্রতিটি দোকানে রকেট, চড়কি থেকে শুরু করে সেল কেনার উৎসাহ তুঙ্গে। বাজিপ্রেমীদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। তবে ফানুস বিক্রি হলেও কেনার লোক ছিল কম। ছবিগুলি তুলেছেন পিন্টু মণ্ডল



