


বার্সেলোনা- ০ : আতলেতিকো- ২ (আলভারেজ, সরলথ)
বার্সেলোনা: ম্যাচের শেষ বাঁশি তখনও বাজেনি। তার আগেই টানেল থেকে ড্রেসিং-রুমের দিকে দৌড় ডিয়েগো সিমিওনের। দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান। তাঁর প্রশিক্ষণে অবশেষে ক্যাম্প ন্যুয়ে জয়ের মুখ দেখল আতলেতিকো মাদ্রিদ। বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালে ঘরের মাঠে ০-২ গোলে বশ মানল বার্সেলোনা। এই সাফল্যের দিনে অবশ্য উচ্ছ্বাসহীন আতলেতিকো কোচ। ২০১১ সাল থেকে এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলেন আর্জেন্তাইন কোচ। স্প্যানিশ ফুটবলের দুই জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার একচেটিয়া দাপটের সামনে তিলে তিলে আতলেতিকোকে গড়ে তুলেছেন। তাঁর হাত ধরেই উঠে এসেছেন একাধিক তারকা ফুটবলার। তা সত্ত্বেও তিনি আন্ডাররেটেড। তবে তিনি থেমে থামেননি। বুধবার রাতের সাফল্যই তার প্রমাণ।
এদিন ঘরের মাঠে শুরুটা দারুণ করেও কাঙ্ক্ষিত গোল তুলে নিতে ব্যর্থ বার্সেলোনা। র্যাশফোর্ডের একটি গোল বাতিল হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ইয়ামালরা। তবে ৪৪ মিনিটে পাও কুবার্সির লাল কার্ডটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। প্রতি-আক্রমণ থেকে গতি বাড়িয়ে গোলের লক্ষ্যে এগিয়ে চলা গুইলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করেন তরুণ ডিফেন্ডার। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভারের সাহায্য নিয়ে তা বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। আর ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান আলভারেজ (১-০)।
ঘরের মাঠে বিরতিতে এক গোলে পিছিয়ে মাঠ ছাড়া। পাশাপাশি ১০ জনে হয়ে যেতেই দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠে দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন হান্স ফ্লিক। তবে তাঁর এই স্ট্র্যাটেজি ধোপে টেকেনি। বরং কাউন্টার-অ্যাটাক ফুটবলে ভর করেই ৭০ মিনিটে বার্সার জালে বল জড়ায় আলেকজান্ডার (২-০)। দু’গোলে পিছিয়ে আর ম্যাচে ফেরার কোনও সুযোগ পায়নি বার্সা। শেষের দিকে ইয়ামাল একক দক্ষতায় বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষ বক্সে হানা দিতেও, হুয়ান মুসোকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ।
বুধবারের ফল যেমন সিমিওনে প্রশংসার দাবিদার, ঠিক ততটাই সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হবে হান্স ফ্লিককে। রাফিনহা, ডে জংয়ের মতো ফুটবলারের অভাব ঢাকতে ব্যর্থ বার্সা কোচ। তারউপর আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠায় পিছিয়ে পড়ার পর পেড্রির মতো সৃজনশীল ফুটবলারকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যে ঠিক ছিল না, তা দ্বিতীয়ার্ধে বার্সার খেলার স্পষ্ট। মাঝমাঠের দখল নিতে পারেননি গাভি, লোপেজরা। বার্সার রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করল আতলেতিকো। ফিরতি পর্বের আগে অবশ্যই এই বিষয়গুলির উপর অনেক বেশি নজর দিতে হবে ফ্লিককে। না হলে আরও একবার বার্সার ইউরোপ সেরার স্বপ্ন মাটিতে মিশতে বাধ্য।