সানা: একে একে নিভে যাচ্ছে কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার প্রাণরক্ষার সম্ভাবনা। ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আব্দো মাহদিকে খুনের অপরাধে ২০১৭ সাল থেকে জেল খাটছেন ৩৬ বছরের ওই নার্স। তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ আগেই দিয়েছে ইয়েমেনের সুপ্রিম কোর্ট। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছিল নিমিশার পরিবার। মঙ্গলবার সেই আবেদন খারিজ করে মৃত্যদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, একমাসের মধ্যেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এখনও হাল ছাড়তে নারাজ নার্সের পরিবার। মাহদির পরিবার এবং গোষ্ঠী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের দাবি মতো আর্থিক রফা করলে বাঁচতে পারে নিমিশার প্রাণ। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করা পর্যন্ত সেই রফা করা যায়। এই কারণে আশায় বুক বাঁধছে নিমিশার পরিবার। তাঁদের সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি নিমিশার পরিবার এখন বিকল্প পথে এগতে চাইছেন। সরকার এ বিষয়ে সবরকম সহায়তা করবে।’ এক দশক আগে কেরল থেকে ইয়েমেনে গিয়েছিলেন পেশায় নার্স নিমিশা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বামী এবং সন্তান। তবে খরচ চালাতে না পেরে স্বামী ও সন্তান দেশে ফিরে আসেন। এরমধ্যে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ বেধে গেলে তাঁরা আর সেখানে যেতে পারেননি। ইয়েমেনে নিজে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুলতে তোড়জোড় শুরু করেন নিমিশা। নিয়ম অনুযায়ী, স্থানীয় কারও সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েমেনে বিদেশিরা স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালাতে পারেন। তাই তালাল আব্দো মাহদির সহায়তায় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলেন। তবে এরপর থেকে নানাভাবে নিমিশাকে হেনস্তা করতে থাকে মাহদি। নিজেকে নিমিশার স্বামী হিসেবে পরিচয়ও দিতে থাকে। একই সঙ্গে শুরু হয় আর্থিক তছরুপ। ২০১৭ সালে খুন হয় আব্দো। আব্দোকে খুনের অভিযোগে নিমিশাকে দোষী সাব্যস্ত করে ইয়েমেনের নিম্ন আদালত। সেই রায় বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। অবশেষে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশিকায় স্বাক্ষর করলেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট।



