নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরে কলেজ ছাত্রী ঈশিতা মল্লিককে বাড়িতে গুলি করে খুনের পর মামা কুলদীপ সিংয়ের সাহায্য নিয়েই ‘ভুয়ো’ পরিচয়পত্র বানিয়েছিল অভিযুক্ত দেশরাজ সিং। ঘটনার দিন কৃষ্ণনগর থেকে কোন রুট ধরে পালাতে হবে, পুলিসকে বিভ্রান্ত করতে মোবাইল ফোনের সিম কোথায় ফেলতে হবে, উত্তরপ্রদেশের দেউড়িয়া পৌঁছনোর পর পুলিসের নজর এড়িয়ে কীভাবে থাকতে হবে, সবটাই ঠিক করে দিয়েছিল মামা ও বাড়ির লোকজন। এবার দেশরাজের সেই মামাকেই গুজরাতের জয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। রবিবার বেলার দিকে তাকে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আনা হয়। তদন্তকারী অফিসাররা মনে করছেন, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক তথ্য জানা যাবে। দেশরাজ এখন কোথায় আছে তা জানা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশরাজের লুকিয়ে থাকার পর্বে তার বাবা রাঘবেন্দ্রপ্রতাপ সিংয়ের ভূমিকা রয়েছে তা স্পষ্ট হয়েছে তদন্তকারী অফিসারদের কাছে। সেজন্য তার নামেও ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। সেইমতো রাজস্থানের জয়সলমিরে বিএসএফের সঙ্গে কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, খুনের পর দেশরাজকে পালাতে সাহায্য করা এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে দেওয়ায় কুলদীপ সিংয়ের যোগ পাওয়া গিয়েছে। তাকে গুজরাতের জয়নগর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছি। কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়, নিখুঁত পরিকল্পনা করে ঠান্ডা মাথায় প্রেমিকাকে খুন করেছে দেশরাজ। সেব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে পুলিস। এমনকী, দেশরাজকে আড়াল করার জন্য তার পরিবার, আত্মীয় এবং প্রভাবশালী লোকজনের সরাসরি মদত রয়েছে তাও পুলিস জানতে পেরেছে। খুনের পর ঘন ঘন সিমকার্ড বদলেছে দেশরাজ। এখনও দেশরাজের সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। যেকোনও সময় দেশরাজ ধরা পড়বে বলে মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
এয়ার ফোর্সের প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক কর্মী মামা কুলদীপই গত ২৭ আগস্ট ঈশিতা খুনে অভিযুক্ত ভাগ্না দেশরাজকে নিয়ে অন্যত্র পালায় বলে সন্দেহ করছেন গোয়েন্দারা। পালানোর জন্য নিজের ভাগ্নাকে ‘কার্তিক’ নামে ভুয়ো আধার কার্ড বানিয়ে দিয়েছিল কুলদীপ। তার মোবাইল থেকে সেই ভুয়ো পরিচয়পত্র পেয়েছে পুলিস। খুনের পর কুলদীপের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন দেশরাজের মা। মামা কুলদীপের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ ছিল দেশরাজের বাবা রাঘবেন্দ্রপ্রতাপ সিংয়েরও। তার নির্দেশেই দেশরাজের ভুয়ো পরিচয়পত্র বানানো হয়েছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। ২৫ আগস্ট খুনের পর দেশরাজ তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কীভাবে পালাতে হবে, সেটাও বলে দিয়ে ছিল তার বাবা। তার জন্য টাকাও দিয়েছিল দেশরাজকে।
বিগত কয়েকদিন ধরে লাগাতার দেশরাজের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে, কোথায় থাকতে হবে, কীভাবে পালাতে হবে তা ঠিক করে দিচ্ছিল পরিবারের লোকজন। পুলিসের ধারণা পরিবারের লোকজনকে বাগে আনতে পারলেই, পৌঁছনো যাবে দেশরাজের কাছে।