Bartaman Logo
১৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তালের শাঁসে বুঁদ কৃষ্ণনগরবাসী

সকাল গড়াতেই চড়ছে পারদ, দুপুরের রাস্তাঘাট কার্যত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে প্রচণ্ড গরমের দাপটে।

প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তালের শাঁসে বুঁদ কৃষ্ণনগরবাসী
  • ২৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর :  জেলা জুড়ে চলা তীব্র দাবদাহে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। সকাল গড়াতেই চড়ছে পারদ, দুপুরের রাস্তাঘাট কার্যত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে প্রচণ্ড গরমের দাপটে। তীব্র দাবদাহে সাধারণ মানুষের জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। এই অসহ্য গরমে শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে মানুষ এখন ঝুঁকছেন প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে। আর সেই তালিকায় সবচেয়ে বেশি কদর বেড়েছে তালের শাঁসের।  ফলে মুখে হাসি ফুটেছে তালের শাঁস বিক্রেতাদের। রাস্তার ধারে, হাটে-বাজারে সকাল থেকেই বসছে তালের শাঁসের অস্থায়ী দোকান। বিক্রেতাদের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। কেউ পথ চলতে চলতেই খেয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ বাড়ির জন্য একসঙ্গে বেশ কয়েকটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে ও শরীরকে ঠান্ডা রাখতে তালের শাঁস এখন বহু মানুষের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে।

Advertisement

কৃষ্ণনগরের বেশিরভাগ বিক্রেতাদের কথায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা খুব বেড়েছে। মানুষ তাই ঠান্ডা জাতীয় খাবার বেশি পছন্দ করছেন। সবাই তো আর কোল্ড ড্রিংকস খান না। তারা এই তালের শাঁসের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। এর ফলে বিগত কিছুদিন ধরে বিক্রি অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। দুপুরে পথ চলতি মানুষেরা দাঁড়িয়ে শুধু নিজেরা খাচ্ছেন এমন নয়, অনেকেই বাড়ির জন্যও নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমাদের ব্যবসা ভালো আছে। ১০ টাকা পিস হিসাবে তালের শাঁস বিক্রি করা হচ্ছে। সকালে থেকে দুপুর গড়াতেই সব তাল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এবছর তালের ফলন ও বেশ ভালো হয়েছে। পাকা তালও প্রচুর পরিমাণেই পাওয়া যাবে
তালের শাঁস কিনতে আসা এক ক্রেতা সৌভিক দে বলেন, এই রোদে বাইরে বেরোলেই শরীর অসুস্থ লাগছে। তাই শরীর ঠিক রাখতে প্রতিদিনই তালের শাঁস কিংবা আঁখের রস খাচ্ছি। এতে গরমের হাত থেকে কিছুটা আরাম পাওয়া যাচ্ছে। আগে এত জনকে নিয়ে বসতে দেখতাম না, এবার বেশ কিছুজন বসছে। বাড়িতেও বেশ কয়েকটা নিয়ে যাচ্ছি, গরমে সকলের জন্য এটা উপকারী।
আরেক ক্রেতা তুষার দাস বলেন, তালের শাঁস খেলে গরমে তো উপকার হয়। সেই সাথে ভেতরটা নরম এবং মিষ্টি হওয়ায় বাচ্চারাও খুব পছন্দ করে খায়। তাই মাঝে মধ্যেই বাড়িতে কিনে নিয়ে যায়। বাচ্চারা আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস খাওয়ার থেকে তালের শাঁস খাওয়া অনেক ভালোঝন্টু সর্দার নামে এক ব্যবসায়ীর কথায়, আজ সকালে আট থোকা তালের শাঁস নিয়ে এসেছিলাম। দুপুর হতে হতেই আর এক থোকা পরে আছে। এই তীব্র গরমে মানুষ ঠান্ডা কিছু খুঁজছেন। তাই তালের শাঁসের চাহিদা হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে গেছে। বিগত দু - তিন বছরের তুলনায় এবার সিজনের শুরুতেই ব্যবসা ভালো  হচ্ছে।
প্রচণ্ড গরমে তালের শাঁস এখন সাধারণ মানুষের কাছে যেন এক টুকরো স্বস্তি। রাস্তার ধারে ছোট দোকান থেকে শুরু করে বাজারের ফল বিক্রেতাদের কাছেও বাড়ছে এর চাহিদা। প্রাকৃতিকভাবে শরীর ঠান্ডা রাখার গুণ থাকায় শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষই ঝুঁকছেন এই মরশুমি ফলের দিকে।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ