সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: বিজেপির জমানায় নতুনভাবে অক্সিজেন পাচ্ছে কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। শুধু শিল্পের উৎকর্ষই নয়, কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প এই অঞ্চলের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে। রাজ্যে সরকার বদল হতেই কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীদের কাছে ভারত কেশরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরির অনেক বরাত এসেছে। তাতেই শিল্পীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
গত কয়েক দশকে পর্যাপ্ত সরকারি উদ্যোগের অভাব এবং বিক্রির সীমিত সুযোগের কারণেই এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। সম্প্রতি রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর কৃষ্ণনগরের শিল্পীমহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পীদের হাতে নতুন কাজ এসেছে। এতে শিল্পীদের আয়ও বেশ কিছুটা বেড়েছে। ফলে পুজোর পর ফের একবার বেশ কিছুটা লাভের মুখ দেখছে শিল্পীদের পরিবারগুলি।
স্থানীয় বেশ কিছু শিল্পীর বক্তব্য, দুর্গা, কালী, জগদ্ধাত্রী পুজো কিংবা অন্যান্য উৎসবের সময় কাজ থাকলেও বছরের বাকি সময়ে মূর্তির বিক্রি তুলনামূলক কম হয়। ফলে সংসার চালানোই তখন কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির অর্ডার আসছে। ফলে কাজ বেশ ভালই হচ্ছে। আয় বাড়ছে। আমাদের শিল্পের দিকে আগের সরকারগুলির সেভাবে নজর ছিল না। একটা সংগ্রহশালা পর্যন্ত নেই। বর্তমান সরকার ভোটের আগে মৃৎশিল্প নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আশা করি তা রাখবে।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃৎ শিল্পী সুবীর পাল বলেন, এটা ঠিক, বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তির অনেক অর্ডার আসছে। ফলে সাময়িক ভাবে মনে হতে পারে ভালো কাজ হচ্ছে। তবে, এটা হয়েই থাকে। সরকারি উদ্যোগ যথাযথ না হলে এই শিল্প টেকা কঠিন। একটা আর্ট কলেজ হলে সেখানে হাতে কলমে মানুষ শিখতে পারবে, সামনে থেকে দেখতে পারলে তবেই তো মানুষের এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। সরকার চিন্তা ভাবনা করলেই এখানে মৃৎশিল্পের উন্নতি ও পর্যটন কেন্দ্র বানানো সম্ভব।
নতুন সরকারের আমলে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির চাহিদা বৃদ্ধি কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীদের কাছে নিঃসন্দেহে আশার বার্তা নিয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে সরকারের কাছে শিল্পীদের প্রত্যাশাও বেড়েছে। শিল্পীরা আশাবাদী, নতুন সরকার পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষ্ণনগরের শতাব্দী প্রাচীন এই কুটির শিল্পকে ফের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করতে সহযোগিতা করবে।