Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটাভুটিতে অপসারিত কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন, শোরগোল

সোমবার কৃষ্ণনগর পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটিতে সরতেই হল চেয়ারপার্সন রীতা দাসকে। এদিন ১৫ জন কাউন্সিলার রীতা দাসকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন।

ভোটাভুটিতে অপসারিত কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন, শোরগোল
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সোমবার কৃষ্ণনগর পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটিতে সরতেই হল চেয়ারপার্সন রীতা দাসকে। এদিন ১৫ জন কাউন্সিলার রীতা দাসকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই তৃণমূলের। বাকি দুজনের একজন নির্দল ও একজন কংগ্রেসের। তবে নতুন চেয়ারপার্সন নিযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালাবেন রীতা দাসই। তবে অনাস্থার জেরে পুরসভায় প্রশাসক বসানো হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। অপসারিত চেয়ারপার্সন রীতা দাস বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব আমাকে এই পদে বসিয়েছে। বিগত তিন বছর কৃষ্ণনগর শহরে অনেক কাজ হয়েছে।‌ এবার দল যা সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই শিরোধার্য।

Advertisement

তৃণমূলের কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, এই বিষয় নিয়ে আমরা কিছু জানি না। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। এই প্রসঙ্গে যে প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে তা হল, জেলা নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখেই কি অনাস্থা প্রস্তাবের মতো এতবড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চেয়ারপার্সনের বিরোধী গোষ্ঠীর কাউন্সিলাররা। 
সোমবার ভোটাভুটির পর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অসীম সাহা বলেন, তিনজন কাউন্সিলার তলবি সভা ডেকেছিলেন। সেখানে আমাদের বর্তমান চেয়ারপার্সন রীতা দাসকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কে দায়িত্ব নেবেন তা শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করবে। 
উল্লেখ্য, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে কড়া বার্তা ছিল যে রাজ্যজুড়ে কোনও পুরসভাতেই অনাস্থা আনা যাবে না। কারণ নেতৃত্বের আশঙ্কা ছিল, কোনও এক পুরসভায় অনাস্থা আনা হলে, রাজ্যজুড়ে সব পুরসভাতেই অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যা ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের ভুল বার্তা দেবে। তবে দলীয় নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানো হয়েছে কৃষ্ণনগর পুরসভায়। এদিকে আজ, মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে কৃষ্ণনগর পুরসভার ঘাসফুল শিবিরের কাউন্সিলারদের সঙ্গে রাজ্য নেতৃত্বের যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত হয়ে গিয়েছে। সেখানে রাজ্য নেতৃত্বের তরফে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত বক্সি ও জয়প্রকাশ মজুমদারের থাকার কথা ছিল। কিন্তু ফিরহাদ হাকিম জেলা সফরে থাকায় ওই বৈঠক হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জয়প্রকাশ মজুমদার। তবে বৈঠক হলেও চেয়ারপার্সনের বিরোধী কাউন্সিলাররা সেখানে যেতেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহের অবকাশ ছিল। কারণ, সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে ওই কাউন্সিলাররা জানিয়ে দেন যে, এই বৈঠকের বিষয়ে তাঁরা অবগত নন। প্রসঙ্গত, দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে গত ২৫ জুন কৃষ্ণনগর পুরসভার চেয়ারপার্সন রীতা দাসের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন ১৫ জন কাউন্সিলার, যার মধ্যে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন। এরপর থেকেই চেয়ারপার্সনের অপসারণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার পর ১৫ দিনের মধ্যে চেয়ারপার্সনকে সভা ডাকতে হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও বৈঠকের আয়োজন না হওয়ায়, ১১ জুলাই ১৪ জন কাউন্সিলার ভাইস চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে সভা ডাকার দাবি জানান। তবে সেই চিঠির পরও ৭ দিনের মধ্যে বৈঠক না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। গত ২১ জুলাই ১২ জন কাউন্সিলার তৃণমূল তিন কাউন্সিলারকে অনাস্থা সভা আহ্বানের অনুরোধ জানান। এই তিনজন হলেন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মলয় দত্ত, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের শিশির কর্মকার এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সৌগত কৃষ্ণদেব। চিঠি পেয়ে তিন কাউন্সিলার জানিয়ে দেন, আগামী ২৮ জুলাই অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে তলবি সভা ডাকা হয়েছে। এদিন সেই সভাই অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৫ জন কাউন্সিলার হাজির ছিলেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ