সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: ‘রথ টানলে দুর্গা আসে।’ রথযাত্রার দিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে বাঙালির দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন। রথের দড়িতে টান পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি, আনন্দময়ীতলা পালপাড়া ইত্যাদি মৃৎশিল্পালয়ে দুর্গাপ্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মাটি, খড়, বাঁশ, কাঠ, রং আর শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে প্রাণ পেতে শুরু করছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা।
বিশ্বজোড়া খ্যাতিসম্পন্ন কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প সদ্য জিআই ট্যাগ পেয়েছে। এখানকার শিল্পীদের হাতে তৈরি প্রতিমা ও মাটির পুতুল শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকী বিদেশেও জনপ্রিয়। আসন্ন উৎসবের মরশুমকে সামনে রেখে এখন থেকেই বিভিন্ন ক্লাব, বারোয়ারি ও বনেদি বাড়ির পুজো কমিটির অর্ডার আসতে শুরু করেছে।
মৃৎশিল্পালয়গুলোতে গেলে দেখা যাচ্ছে, তীব্র গরম উপেক্ষা করে শিল্পীরা কাঠামো বাঁধছেন, কেউ মাটি তৈরি করছেন, বাড়ির মহিলা ও শিশুরাও নানা কাজে সাহায্য করছেন। পুরো একটা অঞ্চলজুড়ে চলছে বিরাট কর্মযজ্ঞ। রথযাত্রা থেকে পুজোর মরশুম শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত সবথেকে ব্যস্ত সময় পার করেন মৃৎশিল্পীরা।
কৃষ্ণনগরের প্রখ্যাত মৃৎশিল্পী গীতা পাল বলেন, দুর্গাপুজোর অর্ডার আসতে চলেছে এক এক করে। এছাড়াও আমরা পরবর্তী চাহিদার কথা ভেবে অতিরিক্ত কিছু বানিয়ে রাখছি। কাজের চাপ ভালোই আছে। একদম জগদ্ধাত্রী পুজো পর্যন্ত চলবে। কাঁচামালের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে, কিন্তু পুজো কমিটিগুলো বেশি দাম দিয়ে ঠাকুর নিতে চায় না। ফলে লাভ তুলনামূলক কম হয়।
আর এক মৃৎশিল্পী শ্যামল পাল বলেন, পুজোর অর্ডার ইতিমধ্যেই আসতে শুরু করেছে। দিন যত এগবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্ডার আসবে। ছোট বড় সব ধরনের প্রতিমা আমরা করে থাকি। তবে এই শিল্পের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়।সদ্য জিআই তকমা পেয়েছি আমরা, এবার যদি সরকার এই শিল্পের দিকে নজর দেয়, তাহলে নতুন প্রজন্ম এই কাজে উৎসাহিত হবে।
রথের সূচনার সঙ্গে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিও জোরকদমে শুরু হয়েছে। কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা জানিয়ে দিচ্ছে, আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা, তারপরই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো।