নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৯ সালে পাঁশকুড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুরবান শা হত্যা মামলায় ৭৬তম সাক্ষী এক পুলিস অফিসার আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে বেঁকে বসলেন! এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে। সরকার পক্ষ থেকে তাঁকে ‘বিরূপ’ সাক্ষী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মামলার বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি গণেশ মাইতি জানান, যেহেতু মামলার অন্যতম এই সাক্ষীকে ‘বিরূপ’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তাই মামলার বিষয়ে বর্তমানে তাঁর জেরাপর্ব চলছে। আদালত সূত্রের খবর, এই খুনের মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন মোট আটজন। তাঁদের মধ্যে একজন আনিসুর রহমান। পাঁচবছর ধরে তিনি জেলে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিন পান। তবে শর্ত হিসেবে দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, অভিযুক্ত পূর্ব মেদিনীপুরে ঢুকতে পারবেন না। তাঁকে প্রতিদিন পুলিসের কাছে হাজিরা দিতে হবে। আনিসুরকে বাদ দিলে বাকি সাত অভিযুক্ত এখন জেলবন্দি। সরকারি কৌঁসুলি জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মামলাটি কলকাতা নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারকের এজলাসে চলছে। ছুটির দিন বাদ দিয়ে রোজই চলছে মামলার শুনানি। তিনি জানান, নিহত কুরবানের বাড়ির লোকজনের আবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি তমলুকের জেলা আদালতের পরিবর্তে কলকাতা নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারকের এজলাসে শুনানির নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। তারপর থেকেই এই কোর্টের বন্ধ এজলাসে চলছে এই মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া। প্রতিদিন দু’ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই শুনানি। ধৃতদের তরফে আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান বলেন, ‘বিচারাধীন মামলা নিয়ে কোনও মন্তব্য নয়।’ ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর পাঁশকুড়ার মাইশোরায় তৃণমূল পার্টি অফিসে খুন হন পাঁশকুড়া-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ‑সভাপতি কুরবান শা।



