কাঠমাণ্ডু, ৯ সেপ্টেম্বর: ছাই চাপা আগুন ছিলই। তাকে উস্কে দিয়েছিল একটি সিদ্ধান্ত। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপ অর্থাৎ ইউটিউব, এক্স, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ব্যান। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে নেপালের নবপ্রজন্ম এককথায় জেন জি। সেই ছাপা আগুনই বৃহৎ আকার ধারণ করে ‘জ্বালিয়ে’ দিল গোটা নেপালের বর্তমান সরকারকে। গণবিদ্রোহের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন কেপি শর্মা ওলি। এমনকী তাঁর দলের একাধিক সাংসদ, কৃষি, স্বরাষ্ট্র ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রীরাও একে একে পদত্যাগ করেছেন। যদিও পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত নেপালে। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন অ্যাপের উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়কে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত।
আচমকাই গতকাল, সোমবার থেকে বিক্ষোভ শুরু হয় নেপালে। রাজধানী কাঠমাণ্ডু সহ একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন যুবক-যুবতীরা। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। নেপাল পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় অন্তত ২১ জনের। জখম ৪০০ জনেরও বেশি। গতকাল, সোমবার দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। বানেশ্বর, সিংহ দরবার, নারায়ণহিতি এবং স্পর্শকাতর সরকারি এলাকাগুলিতে কার্ফু জারি করে প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলির প্রশাসন। দামাকে তাঁর বাসভবনও হামলা থেকে রেহাই পায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিউ বানেশ্বর এলাকায় সেনা নামাতে হয়। কিন্তু কিছুতেই পরিস্থিতি সামলানো যায়নি। সূত্রপাত সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপের উপর ব্যানকে কেন্দ্র করে হলেও বিষয়টি দুর্নীতি, বেকারত্ব ও স্বজনপোষণের দিকে ঘুরে যায়। যার ফলে গতকাল, সোমবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার ঘোষণা করা হলেও, ওলি সরকারের উপর বিক্ষোভের ঝাঁঝ আজ, মঙ্গলবার সকাল থেকে আরও বেড়েছে। নেপালের নবপ্রজন্ম চাইছিল বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। সেই কথাই কেপি ওলিকে বোঝাতে সক্ষম হন নেপালের সেনাপ্রধান। যার ফলে এদিন দুপুরেই পদত্যাগ করেছেন তিনি। তার আগে বিক্ষুব্ধ জনতা অগ্নিসংযোগ করেছে তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনে। নেপালের পার্লামেন্টের পাঁচিল টপকে অধিবেশন কক্ষে পৌঁছে গিয়েছেন একদল আন্দোলনকারী। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে নেপালের প্রেসিডেন্ট, শাসক দলের কার্যালয়েও। পুলিশকে এদিন কার্যত অসহায় দেখাচ্ছিল।
সূত্রের খবর, কেপি ওলি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ইতিমধ্যেই বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কাঠমাণ্ডুর ত্রিভূবন এয়ারপোর্টের। সূত্রের খবর, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে এবার আসরে নামতে পারে সেনা। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে ভারতও। নেপালের বর্তমান অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি দেখে উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রসঙ্ঘও।