নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পেনের গায়ে আঁকা লক্ষ্মী ঠাকুরের ছবি। সেটিও এঁকেছেন ভারতীয় কেউ নন, রাশিয়ার এক শিল্পী। পেনের খাপ ঘুরিয়ে বন্ধ করলে লক্ষ্মীর পূর্ণ অবয়ব ফুটে উঠবে। দাম ৩৫ হাজার টাকা। কেন এত দাম? কারণ পেনের নিব তৈরি হয়েছে সোনা দিয়ে। এই পেন ছুঁয়ে দেখা যাবে যাবে। পকেটের জোর থাকলে কেনাও যাবে।
হো চি মিন সরণির ‘আইসিসিআর’ প্রেক্ষাগৃহে এমন সব পেনের সম্ভার দেখা যাচ্ছে। আজ, রবিবারও দেখা যাবে সে সম্ভার। সেখানে চলছে ‘পেন মহোৎসব’। লক্ষ্মীর ছবি দেওয়া পেনটি নিয়ে এসেছেন মুম্বইয়ের বিনিশা সিংহী। তিনি বললেন, ‘আমার বাবার পেন কালেকশনের শখ। তিনি কয়েক বছর আগে ম ব্লাঁ কোম্পানির একটি ১৫ লক্ষ টাকা দামের পেন কেনেন। মনে করা হচ্ছে, এই পেনই দেশের সবথেকে দামি কলম। অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের স্মৃতিতে এই কলম তৈরি হয়েছিল। পেনের গায়ে তাঁরই হাতে লেখা একটি সমীকরণ জ্বলজ্বল করছে।’ বিনিশা কিন্তু এটি বিক্রি করবেন না। কারণ এই পেন তাঁর বাবা বিশাল সিংহীর কালেকশন। এছাড়া রয়েছে বিখ্যাত পেন কোম্পানি শেফার্ডের শতবর্ষের কালেকশন। যার দাম তিন লক্ষ টাকা। তাহলে কি শুধুই দামি সব কলম দেখেই ফিরে আসতে হবে মানুষকে? মধ্যবিত্তের জন্য কিছুই নেই মহোৎসবে?
উৎসবের উদ্যোক্তা প্রসেনজিৎ গুছাইত ও সুব্রত দাস বললেন, ‘৯৯ টাকা থেকে শুরু, আমাদের এখানে এমন পেনও পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমদিনই বিক্রি হয়েছে ৫০০ পিস। আমরা দেখছি, রবি ঠাকুরের সেই ঝর্ণা কলম ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমরা সেই কলম বাঁচিয়ে রাখতে চাই। শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্য থেকে পেনপ্রেমীরা এসে ভিড় করছেন এখানে।’ তীব্র গরম মাথায় নিয়ে আসানসোল থেকে কলমের টানে এসেছিলেন সুব্রত সরকার। বললেন, ‘আমার ৭৫ বছর বয়স। এখন কালেকশনে ৫৬টি ঝর্ণা কলম রয়েছে। আজ সংগ্রহের সংখ্যা ৬০ করে তবে বাড়ি ফিরব।’ শুধু তাই নয় তিনি তাঁর ছেলে ও তাঁর অফিস কলিগদের বায়না নিয়েও পেন মহোৎসবে এসেছেন। সুব্রতবাবুর মতো শয়ে শয়ে মানুষের ফোন আসছে উদ্যোক্তাদের কাছে। পড়ুয়া থেকে অবসরপ্রাপ্ত সকলেই ব্যাগ ভর্তি করে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন কলম। উৎসবমঞ্চে দাঁড়িয়ে হাতে লিখে, পরখ করে তবে লেখাপড়ার সামগ্রী কিনছে বাঙালি।