Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জঙ্গিদের গুলিতে হত কলকাতার বিতানের শৈশব কেটেছে দুর্গাপুরে, শোকাচ্ছন্ন পাড়া

জঙ্গিদের গুলিতে হত কলকাতার বিতানের শৈশব কেটেছে দুর্গাপুরে, শোকাচ্ছন্ন পাড়া
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল ও সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বুধবার সকাল থেকেই সেকেন্ডারি রোডের ২০/২৮ কোয়ার্টারের সামনে থিকথিকে ভিড়। স্বজন হারানোর বেদনায় শোকস্তব্ধ প্রত্যেকে। কেউ স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে চোখের জল মুছছেন কেউ আবার বাকরুদ্ধ। কাশ্মীরে ভয়াবহ জঙ্গি হানায় প্রাণ গিয়েছে বিতান অধিকারীর। বর্তমান তাঁর পরিবার কলকাতার বৈষ্ণবঘাটায় থাকলেও শৈশব থেকে দীর্ঘদিন দুর্গাপুরে কেটেছে মেধাবী বিতানের। তাঁর বাবা বীরেশ্বর অধিকারী ডিএসপির কর্মী ছিলেন। সেই সূত্রেই দুর্গাপুরের এ-জোনের সেকেন্ডারিতে বেড়ে ওঠা তাঁর। মঙ্গলবার জঙ্গিরা তাঁকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কলকাতার মতো শোকস্তব্ধ স্টিল সিটি দুর্গাপুরও। ভূ-স্বর্গের সফর শেষ করেই দুর্গাপুরে সপরিবারে আসার কথা ছিল তাঁর। সেকথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন তাঁর বন্ধুরা। 

Advertisement

কর্মসূত্রে আমেরিকার ফ্লোরিডায় থাকা বিতানবাবু স্ত্রী ও তিন বছরের পুত্রকে নিয়ে কাশ্মীর বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানেই জঙ্গিরা তাঁকে খুন করেছে। বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মী বিতানের পড়াশোনা দুর্গাপুরেই। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হর্ষবর্ধন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়েছিলেন তিনি। তারপর শিবাজি বয়েজ স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। দুর্গাপুরের বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ইনফরমেশন টেকনোলজি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। এরপর তাঁকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রথমে একটি বহুজাতিক সংস্থার কলকাতার অফিসে কাজ পান। সেখান থেকে তিনি কর্মসূত্রে আমেরিকা চলে যান। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। খেলাধুলো, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে ভালোবাসতেন। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বন্ধুরা। তাঁর বাবার পরিচিতরাও এভাবে তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। 
২০২১সালে শেষবার বিতান দুর্গাপুর এসেছিলেন। সশরীরে দুর্গাপুর না এলেও সোশ্যাল মিডিয়া ও ফোনে দুর্গাপুরের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগ ছিল। তাঁর দাদার বন্ধু তরুণকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওইদিন সকাল পর্যন্ত ফেসবুকে কাশ্মীরের নানা ছবি দিয়েছে। ওর পোস্টে কমেন্টও করেছি। তারপরই বিকেলে এই ঘটনা শুনলাম। আমাদের বিতানকে যে এভাবে টিভিতে দেখতে হবে তা ভাবতে পারিনি। ওর ব্যবহার অত্যন্ত ভালো ছিল। সবাইকে দ্রুত আপন করে নিত। ফোনে বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বর্ধন বলেন, আমাদের বন্ধুদের একটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ আছে। সেখানে ও খুবই সক্রিয় থাকত। আমরা প্রায়শই চ্যাট করতাম। কাশ্মীর থেকে কলকাতায় ফিরে ও দুর্গাপুর আসবে বলে আমাদের জানিয়েছিল। জমিয়ে কোথায় কোথায় আড্ডা দেব বলে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তখন কী জানতাম ও আর ভূস্বর্গ থেকে ফিরবেই না। আমরা চাই এই হত্যালীলা চিরতরে শেষ হোক।  শোকাহত বিতানের শৈশবের বন্ধুরা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ