নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: আচমকা প্রবল বৃষ্টি। সেই সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট ধরে এক নাগাড়ে বাজ পড়ল কলকাতা ও আশপাশের এলাকায়। শনিবার দুপুরে বজ্রপাতের ফলে কালীঘাট চত্বরে বলরাম ঘোষ ঘাট রোডে একটি বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন দুপুরে টালির চালের একটি বাড়ির কাছে বাজ পড়লে বাড়ি ও পাশের পাঁচিলের একাংশ ভেঙে পড়ে। যদিও ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। এদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহালয়ার প্রাক্কালে এদিন তিনি শহরের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপ উদ্বোধনে যাচ্ছিলেন। তাঁর আগেই এই ঘটনা ঘটে। উদ্বোধনে যাওয়ার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনায়ও এদিন দুপুরে বজ্রপাতের তাণ্ডব চলে। ক্যানিং ২ নং ব্লকে বজ্রপাতে একজন মারা গিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। বেশ কিছু জায়গায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের হাই টেনশন লাইনের উপর। বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা সেসব সরিয়ে দেন দ্রুত। বনগাঁতেও মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। টানা ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি চলছে হুগলিতে। শনিবার দুপুরেও জেলাজুড়ে বৃষ্টি হয়েছে বিক্ষিপ্তভাবে। পুজোর মুখে বৃষ্টির দাপটে বাজারে যেমন প্রভাব পড়েছে তেমনই মণ্ডপসজ্জা থেকে প্রতিমা তৈরিতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। হুগলির একাধিক পুর এলাকা ও সাবওয়েতে জল জমে যায়। সন্ধ্যার পরে আবহাওয়া মেঘলা থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। তখন বাজারহাটে ভিড় কিছুটা জমাট হয়। সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে মধ্য হাওড়ার বেশ কিছু এলাকা সাময়িকভাবে জলমগ্ন হয়। শিবপুরের একাধিক এলাকায়ও জমা জলের দুর্ভোগ পোহাতে হয় বাসিন্দাদের। পঞ্চাননতলা, কদমতলায় জল জমলেও সন্ধ্যার মধ্যে তা নেমে যায়।
নিম্নচাপের গতিবিধির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর। শনিবার তারা জানিয়েছে, একটি নিম্নচাপ ২২ তারিখ নাগাদ উত্তর বঙ্গোপসাগরে পৌঁছবে। ২৫ সেপ্টেম্বর নাগাদ মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূলের কাছে একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে। তার আগেই শনিবার শহরজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ও নাগাড়ে বজ্রপাত পুজোর দিনগুলিতে দুর্যোগ নিয়ে আশঙ্কা বাড়িয়েছে আম জনতার। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘বর্ষা বিদায়ের মুখে এমন বজ্রবিদ্যুত্ সহ বৃষ্টিপাত হয়েই থাকে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকার কারণেই বৃষ্টির মেঘ তৈরি হচ্ছে।’ নিজস্ব চিত্র