


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবারের বর্ষা মরশুমে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণের নিরিখে দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে প্রথম স্থান পেয়েছে কলকাতা শহর। আবহাওয়া দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালে কলকাতায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৬৫৯.২ মিমি। এটা কলকাতায় দীর্ঘকালীন গড় বৃষ্টিপাতের থেকে ২৩ শতাংশ বেশি। কলকাতার একেবারে কাছে আছে বাঁকুড়া জেলা। সেখানে ১৬২৫.৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে এই সময়ে। বাঁকুড়াতে গড়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এবারের বর্ষা মরশুমের বেশিরভাগ সময়ে মোট বৃষ্টির নিরিখে বাঁকুড়া এক নম্বরে ছিল। কিন্তু গত ২২ সেপ্টেম্বর বেশি রাত থেকে পরের দিন ভোর পর্যন্ত কলকাতায় প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হয়। আলিপুর আবহাওয়া অফিসে ওই সময়ে প্রায় ২৭০ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। আলিপুরে যে পরিমাণ বৃষ্টি নথিভুক্ত হয় সেটাকেই কলকাতার বৃষ্টি বলে ধরা হয়। কয়েক ঘণ্টার এই প্রবল বৃষ্টি বাঁকুড়াকে শেষ ‘ল্যাপে’ বর্ষণের নিরিখে দক্ষিণবঙ্গে রানার্স করে দিয়েছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বড়ো অংশ থেকে বর্ষা এখনও বিদায় নেয়নি। এই রাজ্য থেকে বর্ষা বিদায়ের স্বাভাবিক সময় ১০ অক্টোবর। কিন্তু সরকারি খতিয়ানে বর্ষাকালীন বৃষ্টির হিসেব জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই চারটি মাসের সময়ে ধরা হয়। দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কোনও জায়গাতে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত কম হলেও আবহাওয়াগত বিচারে তা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। এর থেকেও কম বর্ষণ হলে সেটাকে ধরা হয় ঘাটতি। দক্ষিণবঙ্গে কোনও জেলাতেই বৃষ্টির ঘাটতি হয়নি। এবার দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সবথেকে কম বৃষ্টি হয়েছে নদীয়া জেলাতে (৮৮৫ মিমি)। এটা দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ৮ শতাংশ কম। নদীয়া ছাড়া দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর ও বীরভূম জেলাতে গড়ের থেকে সামান্য কম বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি সব জেলাতেই এবার গড়ের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। শুখা জেলা বলে পরিচিত পুরুলিয়াতে এবার ১৩৩১.৩ মিমি বৃষ্টি হয়েছে, যা গড়ের থেকে ২০ শতাংশ বেশি।
উত্তরবঙ্গে চিত্রটা অন্যরকম। আবহাওয়াগত নিরিখে এখানকার পাঁচটি জেলাতে বৃষ্টির ঘাটতি আছে। কারণ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সেখানকার দীর্ঘকালীন গড়ের ১৯ শতাংশের মাপকাঠি পার করতে পারেনি। উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলা আছে, যেখানে গড়ের থেকে ৪৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণটা অনেকটা বেশি। যেমন আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলাতে ২২০০-২৩০০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। এটা দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় অনেক বেশি হলেও সেখানকার দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ২২ শতাংশ কম। দার্জিলিংয়ে ১৯০৮ মিমি বৃষ্টি হলেও তা দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ৩০ শতাংশ কম। আবহাওয়াগত নিরিখে উত্তরবঙ্গে শুধু কালিম্পং ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বৃষ্টির ঘাটতি হয়নি।