Bartaman Logo
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘স্বচ্ছ বায়ু’ সমীক্ষায় তলানিতে কলকাতা, বেহাল হাওড়া-বারাকপুরও

দূষণে জেরবার কলকাতা! তথৈবচ হাওড়া ও আসানসোল। কেন্দ্রের ‘স্বচ্ছ বায়ু সর্বেক্ষণ’-এর অধীনে ২০২৬ সালের পরিসংখ্যানে সামনে আসছে রাজ্যের শহরগুলির হতাশাজনক ছবি।

‘স্বচ্ছ বায়ু’ সমীক্ষায় তলানিতে কলকাতা, বেহাল হাওড়া-বারাকপুরও
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: দূষণে জেরবার কলকাতা! তথৈবচ হাওড়া ও আসানসোল। কেন্দ্রের ‘স্বচ্ছ বায়ু সর্বেক্ষণ’-এর অধীনে ২০২৬ সালের পরিসংখ্যানে সামনে আসছে রাজ্যের শহরগুলির হতাশাজনক ছবি। দেশে ১০ লক্ষের বেশি জনসংখ্যার শহরগুলির মধ্যে একেবারে তলানিতে স্থান হয়েছে মহানগর কলকাতার। এই বিভাগের ৪৮টি শহরের তালিকায় শেষের দিক থেকে দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহর। বেশ কয়েকটি শহরের সামগ্রিক স্কোর সমান হওয়ায় র‌্যাংকিংয়ে ৩৯-এর মধ্যে ৩৮তম স্থানে কলকাতা। আসানসোল রয়েছে ২৩তম স্থানে। হাওড়া ৩১-এ। গোটা দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অর্থাৎ শীর্ষস্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউ। আর ‘গ্যাস চেম্বার’ বলে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়া দেশের রাজধানী শহর দিল্লি রয়েছে ২১তম স্থানে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বেঙ্গালুরু (৩২তম) ও শ্রীনগরের (২৬তম) মতো অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন বলে পরিচিত শহরগুলির থেকেও উপরে জায়গা পেয়েছে দিল্লি। বড়ো মেট্রোপলিটন শহরগুলির মধ্যে হায়দরাবাদ ১৯, মুম্বই ২৮ ও চেন্নাই ৩৫তম স্থানে জায়গা পেয়েছে। পরিবেশকর্মী নব দত্ত বলেন, নিকাশি নালা, জঞ্জাল যদি নিয়মিত পরিস্কার না করা হয়, গ্যাস চেম্বারে পরিণত হবে সেই শহর। সেটাই হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় জঞ্জাল পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। নির্মাণ সংক্রান্ত বর্জ্যর জন্য প্রবল দূষণ তৈরি হচ্ছে। বায়ু দূষণের মূল উত্স যেমন গাড়ি। এটা বাদ দিলে আর একটা বড় উত্স হল আবর্জনা। ২০১৬ সালের আইন অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আবর্জনা ব্যবস্থাপনা করতেই হবে। আমাদের এখানে সারা রাজ্যে এসব কিছুই হয় না। 

Advertisement

সোমবার কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক চলতি বছরের ‘স্বচ্ছ বায়ু সর্বেক্ষণ’-এর ক্রমতালিকা প্রকাশ করেছে। শুধুমাত্র বায়ুর মান নয়, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসের লক্ষ্যে শহরগুলি কী কী পদক্ষেপ করেছে, তার মূল্যায়নের নিরিখেও স্থির হয় র‌্যাংকিং। সেই মাপকাঠিতেও ১০ লক্ষের বেশি জনসংখ্যার শহরগুলির মধ্যে ১৯৮ পয়েন্ট স্কোর করে তালিকায় সবার উপরে জায়গা পেয়েছে লখনউ। টানা আটবার দেশের পরিচ্ছন্নতম শহরের স্বীকৃতি পাওয়া ইন্দোর এবার দ্বিতীয় স্থানে। মধ্যপ্রদেশের এই শহরটির স্কোর ১৯৭ পয়েন্ট। তৃতীয় স্থানে মধ্যপ্রদেশেরই আরেক শহর— জব্বলপুর। স্কোর ১৯৫। চতুর্থ স্থানে একত্রে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের দুই শহর— ভোপাল ও আগ্রা। এই দুই শহরেরই স্কোর ১৯২ পয়েন্ট। জাতীয় নির্মল বায়ু কর্মসূচি (এনসিএপি)-এর আওতায় কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক ‘স্বচ্ছ বায়ু সর্বেক্ষণ’ পরিচালনা করে। এর মূল্যায়নে বিভিন্ন দূষণ-নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। রাস্তার ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণ, কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন, যানবাহন ও শিল্পকারখানার নির্গমন হ্রাস, নির্মাণ ও ভাঙা বাড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হয়।
৩ থেকে ১০ লক্ষ জনসংখ্যার মোট ৪২টি শহরের মধ্যে বারাকপুর রয়েছে ৩১ নম্বরে। যদিও র‌্যাঙ্ক ২৭। আর এক শহর দুর্গাপুর আছে ৩৬ নম্বরে। তার র‌্যাঙ্ক হয়েছে ৩২। এই তালিকায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ওড়িশার রাউরকেল্লা। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদ ও অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর। তৃতীয় মহারাষ্ট্রের অমরাবতী। ৩ লক্ষের কম জনসংখ্যার ৪০টি শহরের মধ্যে পশ্চিমঙ্গের হলদিয়া আছে পাঁচ নম্বরে। রাজ্যের কোনো শহরের ক্ষেত্রে এটাই সেরা র‌্যাঙ্ক। পয়লা নম্বরে ওড়িশার কলিঙ্গনগর। এই বিভাগে দুই ও তিন নম্বরেও ওড়িশার দু’টি শহর— অঙ্গুল ও তালচের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ