নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা ভাষা এবং বাঙালি অস্মিতা রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। সে সময় খাস কলকাতায় অসমিয়া ভাষায় লেখা সাইনবোর্ড! এই ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সেই দোকানের মালিককে চিঠি পাঠিয়ে সাইনবোর্ড বদলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর অসমিয়া’র পরিবর্তে সাইনবোর্ড লেখা হল বাংলায়।
ঘটনাটি কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার এস এন ব্যানার্জি রোডে। কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে আছে পুরসভার অন্য একটি অফিস। সেটির একতলায় একাধিক দোকান ভাড়া দেওয়া আছে। সেই বাড়িটির চলতি নাম ‘নিজাম বিল্ডিং’। এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি খাবারের দোকান। সম্প্রতি সেখানে একটি জুতোর শোরুম খোলা হয়েছে। যেখানে সাদা রঙের বোর্ডের উপর লাল রঙের হরফে ইংরেজি এবং অসমমিয়ায় লেখা ছিল জুতো সংস্থাটির নাম। বিষয়টি নজরে আসতেই পুরসভা পদক্ষেপ নেয়। লাইসেন্স বিভাগ দোকানের মালিককে চিঠি পাঠায়। স্পষ্ট জানায়, সাইনবোর্ডে বাংলা বাধ্যতামূলক। অসমীয়া ভাষা রাখা চলবে না। তারপর চিঠি প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টে যায় সাইনবোর্ড। বর্তমানে ইংরেজির সঙ্গে লাল হরফে জ্বলজ্বল করছে বাংলা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বাংলা ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা পাওয়ার পর প্রচার শুরু করে পুরসভা। কয়েক মাস আগে নির্দেশিকাও জারি করেছিল। পুরসভার যে সাইনবোর্ড বা পথ নির্দেশিকায় বাংলা ছিল না, সেখানে নতুন সাইনবোর্ড দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি অফিস, হোটেল ও অন্যান্য সংস্থাকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। মেয়র বলেন, ‘আগে বাংলা লেখা হবে। তারপর অন্য ভাষা। শহরে থাকা বিজ্ঞাপনের হোর্ডিংগুলির সঙ্গে বিভিন্ন হোটেল, বেসরকারি সংস্থার নামের বোর্ডেও বাংলাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।’ এ ক্ষেত্রে মেয়র তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, উত্তরাখণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। সেখানে স্থানীয় ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান। পুরসভা সূত্রে খবর, কয়েক মাস আগেই এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ায় তখন ব্যবসায়ী মহলকে সাইনবোর্ড বা ব্যানার বাংলায় লেখার বার্তা পাঠানো হয়েছিল।