Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্লাস ফোর হেল্পারদের প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনে ট্রেন চালাবেন তাঁরাই, যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ক্লাস ফোর হেল্পারদের প্রশিক্ষণ,  প্রয়োজনে ট্রেন চালাবেন তাঁরাই, যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ১২:০৩
Prefer us on Google

রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: দেশের প্রথম মেট্রো শহর ভুগছে ‘কঠিন রোগে’। যাত্রী বোঝাই মেট্রো দৌড় করান চালক কিংবা মোটর ম্যানরা। কলকাতা মেট্রোয় এই মুহূর্তে মোটর ম্যানের তীব্র আকাল। রেল সূত্রের খবর, কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর রুটে অনুমোদিত মেট্রো চালকের সংখ্যা ৩৯৬ জন। বর্তমানে মাত্র ২১৬ জন মোটর ম্যান দিয়ে পরিষেবা চলছে। সবমিলিয়ে স্রেফ একটি রুটেই ১৮০ জন মেট্রো চালকের ঘাটতি। চলতি ৩১ মার্চ আরও ১৩ জন মোটর ম্যান অবসর নিতে চলেছেন। স্বভাবতই চালকের আকাল চরমে উঠেছে মহানগরীর এই গর্বের যানে। এই মুহূর্তে শহরে চালু রয়েছে আরও চারটি মেট্রো রুট। সেগুলি হল–হাওড়া ময়দান-এসপ্ল্যানেড, শিয়ালদহ-সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, কবি সুভাষ-হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও জোকা-মাঝেরহাট। নতুন এই লাইনগুলির জন্য পৃথক মেট্রো চালক বরাদ্দ করেনি ভারতীয় রেল। নর্থ-সাউথ করিডরে কর্মরত মেট্রো চালকদের তুলে নিয়ে গিয়ে কোনও মতে পরিষেবা চালানো হচ্ছে। চালকের অভাব প্রকট হতেই পরিষেবার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে ওইসব রুটে। সারাদিনে কবি সুভাষ-দক্ষিণেশ্বর রুটে আগে ২৯০টি পরিষেবা চলত। কর্মী সঙ্কটের জেরে তা এই মুহূর্তে ২৬২টিতে নেমে এসেছে। ফলে নর্থ-সাউথ রুটে মেট্রো পরিষেবার সময়েও ব্যাপক ভোগান্তি হচ্ছে বলে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন বহু যাত্রী। 

Advertisement

অন্যদিকে, শুরুর দিন থেকে মেট্রো রেকে সামনে ও পিছনের কেবিনে দু’জন মোটর ম্যান থাকেন। কিন্তু পর্যাপ্ত চালক না থাকায় ক্লাস ফোর হেল্পারদের অল্প কিছুদিন প্রশিক্ষণ দিয়েই চালকের ভিন্ন প্রান্তের কেবিনে তুলে দেওয়া হচ্ছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর জোড়া লাইন ও জোকা-মাঝেরহাট করিডরে চুপিসারে এই বদল হয়ে গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে মেট্রো ভবনের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, টানেলের মধ্যে কিংবা যাত্রাপথের মাঝে আত্মহত্যা অথবা কারিগরি কারণে মেট্রো দাঁড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক অতীতে যার ভুরি ভুরি নজির কলকাতা মেট্রোয় রয়েছে। এক্ষেত্রে বিপত্তির আগে চালক যে অভিমুখে রেক চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তার উল্টোদিকে দৌড় করাতে হয়। সেক্ষেত্রে চালকের বিশ্বস্ত হাতের বদলে অনভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানদের হাতেই হাজার হাজার যাত্রীর সার্বিক নিরাপত্তা তুলে দিতে হবে। এই সময়ে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে, প্রশ্ন তুলেছেন ওই কর্তা। প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে কলকাতা মেট্রো প্রথম পৃথক সত্তার পরিচিতি পায়। ভারতীয় রেলের ১৭তম জোন হিসেবে স্বীকৃতি পায় মেট্রো। ২০১২ সালে রেল বোর্ড আজব একটি জয়েন্ট প্রসিড্যুইরাল অর্ডার (জেপিও) জারি করে। যার সারমর্ম হল, আগামীতে কলকাতা মেট্রো চালক পদে কর্মী চাইতে পারবে না। পূর্ব রেল এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেল থেকে চালক মেট্রোতে দেওয়া হবে। ট্রেন পরিষেবায় যুক্ত ব্যস্ত দুই জোনে বিরাট সংখ্যক চালক উদ্বৃত্ত হয় না। ফলে মেট্রোয় চালকের আকাল বেড়েই চলে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রভাবিত মেট্রো কর্মচারী সংগঠনের সহ সভাপতি শুভাশিস সেনগুপ্ত বলেন, সার্বিক ক্ষেত্রেই কর্মী সঙ্কট চলছে। তবে চালক পদে এই দৈন্যদশা যাত্রী সুরক্ষায় আপোসের শামিল। মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রাকেশ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ