Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতার মেয়র ববিই: কমিশনার

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করেননি, জানিয়েছেন পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। রাজনৈতিক জল্পনা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

কলকাতার মেয়র ববিই: কমিশনার
  • ৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফিরহাদ হাকিমই কলকাতা পুরসভার মেয়র রয়েছেন। উনি পদত্যাগ করেননি। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানান পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে। বুধবার ফিরহাদ হাকিম মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে খবর রটে। এমনকি তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে পদত্যাগ করছেন মেয়র। শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। যদিও, ফিরহাদ জানিয়েছিলেন, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এবার, সরকারিভাবে পুর কমিশনারও জানিয়ে দিলেন, মেয়র রয়েছেন ফিরহাদই। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ও বলেছেন, এখনও পর্যন্ত মেয়র কোনো পদত্যাগপত্র আমার কাছে পাঠাননি। সূত্রের খবর, নবান্নও চাইছে, মেয়র হিসেবে কাজ চালিয়ে যান ফিরহাদ। মেয়াদ সম্পূর্ণ করুন তিনি। তবে দলের ঘোষিত অবস্থান সত্ত্বেও ফিরহাদ মেয়র হিসেবে থেকে যাওয়ায়, রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।  

Advertisement

এদিন কমিশনার সাংবাদিক বৈঠকে আরও জানান, নিকাশি বিভাগের মেয়র পারিষদ তারক সিংয়ের পদত্যাগ পত্রও গৃহীত হয়নি। স্মিতা পান্ডে বলেন, রাজ্যস্তরে বর্ষার প্রস্তুতি বৈঠকের পর এবার কলকাতায় বরো ভিত্তিক মিটিং করা হবে। যে মেয়র পারিষদ পদত্যাগ পত্র আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁকেও সেই বৈঠকে ডাকা হবে। কারণ, পদত্যাগ করা একটা বিষয়, আর পদত্যাগ গ্রহণ করা বা না করা, আরেকটা। ওঁনার  পদত্যাগপত্র এখনও গৃহীত হয়নি। কলকাতা পুরসভার পাঁচ জন কাউন্সিলারের গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, সব সময় সব রকম দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত থাকি। জনপরিষেবা বিঘ্নিত হবে না। কারণ, সমান্তরালভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা কাজ করে চলেছে। 
অন্যদিকে, মাসিক অধিবেশন নিয়ে পুর কমিশনারের সঙ্গে পুর-বোর্ডের যে বিরোধ বেঁধেছিল, তা কলকাতা হাইকোর্টে গড়ায়। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, পুরসভার মাসিক অধিবেশন নিয়মিত করতেই হবে। চেয়ারপার্সনই মাসিক অধিবেশন ডাকবেন। যার ভিত্তিতে এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে মালা বলেন, ২২ মে যে পুর-অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল, সেটা আমাদের অজান্তেই বাতিল হয়েছিল। আমরা অন্ধকারে ছিলাম। ২৯ মে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হই ডিভিশন বেঞ্চে। ৩ জুন শুনানি ছিল। আদালত অধিবেশন ডাকার অনুমোদন দিয়েছেন। আগামী ১৯ জুন বেলা দুটোর  সময় অধিবেশন ডাকছি। সেই মতো পুরসভার সচিবকে চিঠি পাঠিয়েছি। যদিও সূত্রের খবর, ডামাডোল চলছেই। আদালতের নির্দেশের পরেও মালা রায়ের পাঠানো চিঠি অফিসে গ্রহণ করতে চায়নি পুরসভার সচিবালয়। তারপর তা ই-মেল মারফত ফের পাঠানো হয়। 
এই প্রসঙ্গে পুর কমিশনার বলেন, অধিবেশন সংক্রান্ত বিষয় বিচারাধীন। মন্তব্য করব না। বিজেপির বর্ষীয়ান কাউন্সিলার মিনাদেবী পুরোহিতকে এই প্রসঙ্গে বলেন, অবশ্যই পুরসভার মাসিক অধিবেশন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। সকলে তাঁদের দাবি-দাওয়া জানাতে পারবেন। গত মাসে আমরা ডাক পাইনি। তবে, ক্লাব রুমে নয়। কাউন্সিল চেম্বারেই করতে হবে অধিবেশন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ