সুকান্ত বেরা, কলকাতা:
সুকান্ত বেরা, কলকাতা:
গুজরাত ১৯৮-৩ - কলকাতা ১৫৯-৮
বল ঘুরলেও বিপদ, নড়লেও। বিপদ লুকিয়ে পাটা উইকেটেও। আসলে নাচতে না জানলে উঠোনের দোষ। কলকাতা নাইট রাইডার্সের অবস্থা সেরকমই। জয়ের সরণিতে ফেরার স্বপ্ন আরও ফিকে, সোমবার ইডেনে গুজরাত টাইটান্সের কাছে ৩৯ রানে হেরে প্লে-অফের দৌড় থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল শাহরুখ খানের দল। আর মগডালে জাঁকিয়ে বসল গিল বাহিনী।
ঘরের মাঠে হার মানেই পিচ নিয়ে অসন্তোষের ফাটা রেকর্ড বাজানো শুরু। নিয়মিতভাবে এটাই করে চলেছেন অজিঙ্কা রাহানে। ‘আমরা পছন্দের উইকেট চেয়েও পাচ্ছি না’— বাচ্চা ছেলের বায়না শুনতে শুনতে বিরক্ত সমর্থকরাও। আসলে ম্যাচ জিততে গেলে দরকার মাঠে নেমে সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরা। সেটাই দেখালেন শুভমান গিল, সাই সুদর্শনরা। টস হেরে মুষড়ে পড়া নয়, ‘ক্যালকুলেটিভ রিস্ক’ নিয়ে কীভাবে রানের মিনার খাড়া করতে হয়, গুজরাতের ৩ উইকেটে ১৯৮ রান তোলার মধ্যেই স্পষ্ট। গিলের একারই ৫৫ বলে ৯০। অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেন তিনি। তবে ১০টি চার ও তিনটি ছক্কা দিয়ে সাজানো তাঁর ইনিংসে পরতে পরতে ধরা পড়েছে আত্মবিশ্বাসের ছাপ। যাকে বলে ‘ক্যাপ্টেন্স নক’। সঙ্গী সুদর্শনও হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকালেন। দখলে কমলা টুপিও। আর জস বাটলার দেশের হয়ে যতটা খারাপ, ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ততটাই ভালো। গত ম্যাচে ৯৭ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েছিলেন। এদিন বার দুয়েক জীবন পেয়ে করলেন অপরাজিত ৪১। ওপেনিং জুটিতে ১১৪ তোলে গুজরাত। যা কেকেআরের বোলারদের হতোদ্যম করে দেওয়ার পক্ষে ছিল যথেষ্ট। সুদর্শনকে (৫২) আউট করা রাসেলকে কেন দ্বিতীয় ওভার বল করানো হল না?
টার্গেট যখন ১৯৯, তখন শুরু থেকেই ঝড় তোলা উচিত ছিল কেকেআরের। কিন্তু ডি’ককের পরিবর্ত হিসেবে নামা গুরবাজ ১ রানে ফিরতেই ম্যাচে জাঁকিয়ে বসার চেষ্টা করেন সিরাজরা। নারিনকে (১৭) ফেরান রশিদ। একটা সময় নাইটদের দরকার ছিল ৬৬ বলে ১৪০। বেঙ্কটেশের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল দল নয়, নিজের পিঠ বাঁচাতে খেলছেন। এমন মধ্যমমানের ক্রিকেটারের পিছনে ২৩.৭৫ কোটি ব্যয় করার কোনও যুক্তি নেই। শাহরুখ খান মান্নত থেকে গাদা গাদা টাকা আরব সাগরে ছুড়ে ফেলেছেন। এখন আর হাত কামড়ে কোনও লাভ নেই।
আস্কিং রেট যখন হু হু করে বাড়ছে, তখন তো পর পর বাউন্ডারি হাঁকিয়ে চাপ কমিয়ে আনা জরুরি। মজার ব্যাপার হল, একটা সময় ৩৪ বলে কোনও বাউন্ডারি আসেনি নাইটদের ইনিংসে। তাহলে তো প্রশ্ন উঠবেই, টসে জিতে পরে ব্যাট কেন? রাহানে ৩৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি করলেন ঠিকই, কিন্তু সেটা না হোমে, না যজ্ঞে লাগল। তবুও একরাশ আশা নিয়ে ইডেনের গ্যালারি তাকিয়ে ছিল রাসেল, রিঙ্কুদের ব্যাটে। অসম্ভবকে সম্ভব করে রূপকথার জয় উপহার তো দিতে পারেন এই জুটিই। কিন্তু গিলের দুরন্ত ক্যাপ্টেন্সি, অনবদ্য ফিল্ডিং এবং আঁটসাঁট বোলিংয়ে নাইট সমর্থকদের বেদনার বাজনাই সঙ্গী। রশিদ খানের বলে রাসেল (২১) স্টাম্পড হতেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট। রমনদীপ (১) ও মঈন আলি (০) তো আসা-যাওয়ার প্রদর্শনী করলেন। এরপর আর অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়নি রিঙ্কু সিংদের পক্ষে। জয়ের খিদেটাই যেন তাঁরা ডাগ-আউটে ফেলে এসেছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: গুজরাত ১৯৮-৩ (গিল ৯০, সুদর্শন ৫২, বাটলার ৪১*, রাসেল ১৩-১)। কলকাতা ১৫৯-৮ (রাহানে ৫০, রঘুবংশী ২৭*, রশিদ ২৫-২, প্রসিদ্ধ ২৫-২)।
- গুজরাত জয়ী ৩৯ রানে। - ম্যাচের সেরা: গিল।