Bartaman Logo
২৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা এবার পূর্ণাঙ্গ জেলা

কলকাতা এবার পূর্ণাঙ্গ জেলা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ঘোষণায় প্রশাসনিক পরিবর্তন আসবে। বিস্তারিত পড়ুন।

কলকাতা এবার পূর্ণাঙ্গ জেলা
  • ২৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ জেলা হচ্ছে কলকাতা। সোমবার রাজ্য বাজেটে একথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সংশ্লিষ্ট মহলে এবং শহরবাসীর মধ্যে এনিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই মিলছে। একই সঙ্গে তারা মনে করছে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং তার যথাযথ বাস্তবায়ন হলেই এই সিদ্ধান্তের সুফল পাবে আম জনতা। 

Advertisement

বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে কলকাতাকে জেলা হিসাবে ধরা হলেও একটি পূর্ণাঙ্গ জেলার প্রশাসনিক ক্ষমতা বণ্টন যেভাবে হয়, কলকাতার ক্ষেত্রে তা অনেকটাই আলাদা। কলকাতা পুরসভার শীর্ষ প্রশাসনিক পদে রয়েছেন পুর-কমিশনার। তবে তিনি এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ভোগ করেন না। কলকাতায় এই ক্ষমতা রয়েছে লালবাজারে শীর্ষপদে থাকা পুলিশ কমিশনারের হাতে। ব্রিটিশ আমল থেকেই কলকাতা পুলিশ আইন সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। এমনকি, সারা দেশের মধ্যে একমাত্র কলকাতার পুলিশ কমিশনারের হাতেই রয়েছে এই ধরনের ক্ষমতা। আবার রেন্ট কন্ট্রোল থেকে শুরু করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন ধরনের শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে একজন সিনিয়র কালেক্টরেটের হাতে। কিন্তু জেলায় জেলাশাসকই যাবতীয় প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলান। 
কলকাতা পূর্ণাঙ্গ জেলা হলে কী সুবিধা হবে? রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বলেন, ‘জেলা হলে সেখানে একজন জেলাশাসক থাকবেন। জেলাশাসকের কার্যালয়সহ যাবতীয় ব্যবস্থাপনা থাকবে। জেলাশাসক থাকলে নির্বাচনের সময় তিনিই ভোটসংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করতে পারবেন। এখন যেমন কলকাতাকে দু’ভাগ করে নির্বাচনের কাজ করতে হয় এবং দু’জন ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারকে দায়িত্ব দিতে হয়, তার আর দরকার পড়বে না।’ সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কলকাতা জেলা হলে প্রশাসনিক কাজেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এক প্রশাসনিক কর্তার কথায়, ‘মুম্বইতেও একজন জেলাশাসক রয়েছেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশাসনিক কাজে বাড়তি সুবিধা হয়। তবে সরকার কলকাতা জেলাকে কীভাবে দেখতে চাইছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’ জেলাশাসক দায়িত্ব নিলে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের ক্ষমতা খর্ব হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, সেক্ষেত্রে জেলাশাসকের হাতে চলে যাবে এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা। ১৪৪ ধারা জারি করার ক্ষমতা জেলাশাসকের হাতে রয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে সেই ক্ষমতা বর্তমানে পুলিশ কমিশনারের হাতে রয়েছে। সেই ক্ষমতারও বদল ঘটবে। এছাড়া, বন্দুকের লাইসেন্স, পানশালা, রেস্তরাঁ সংক্রান্ত বিভিন্ন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষমতা বর্তমানে কলকাতার সিপির হাতে রয়েছে। তাও চলে যাবে জেলাশাসকের হাতে। ওই প্রশাসনিক কর্তা আরও জানান, অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কারা সুবিধা পাবেন, সেই উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার ক্ষমতা পুর-কমিশনারের নেই। তাঁকে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাতে হয়। সেখান থেকে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়। কিন্তু জেলাশাসক থাকলে তিনিই ওই তালিকা চূড়ান্ত করতে পারবেন। বর্তমানে কলকাতা পুরসভা এলাকার অন্তর্গত কয়েকটি বিধানসভা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার আওতাভুক্ত। এই অংশের নাগরিকদের খাজনা যেমন দিতে হয়, তেমনই দিতে হয় পুরসভার ট্যাক্স। পোস্টাল অ্যাড্রেস এবং পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের তরফে দেওয়া প্রেমিসেস নম্বর আলাদা হয়। এই ধরনের সমস্যা মিটবে। জেলায় জাতিগত শংসাপত্র থেকে শুরু করে জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র সহ বিভিন্ন ধরনের সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে জেলাশাসক প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। কিন্তু কলকাতার ক্ষেত্রে যেতে হয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। সেখানেও পুরসভার সঙ্গে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। উদাহরণ দিয়ে ওই কর্তা বলেন, ‘পুর কমিশনারের মাথার উপর রয়েছেন মেয়র। তাঁকে মেয়রের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। মেয়র আদতে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। কিন্তু প্রথাগতভাবে জেলাশাসকের উপর সরাসরি কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকে না। জেলাশাসককে জবাবদিহি করতে হয় মুখ্যসচিব কিংবা স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ