নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গাড়িতে তুলে এক ব্যবসায়ীর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে টাকা, মোবাইল ফোন ও সোনার আংটি হাতিয়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার আট বছর পর দোষী সাব্যস্ত আখতার হোসেনকে ১২ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিল আদালত। বৃহস্পতিবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতের মুখ্য বিচারক সৌমেন্দ্রনাথ দাস এই নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারক এই সাজার সঙ্গে দু’হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছ’মাস হাজতবাসের নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে এপ্রিল মাসে ঘটনাটি ঘটেছিল কলকাতার ময়দান এলাকায়। দমদমের বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ী ঘটনার দিন রাতে একটি সংস্থায় বরাত অনুযায়ী পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পর ময়দান এলাকায় গাড়ি ধরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন একটি শাটল গাড়িতে তিনি ওঠেন। ওই গাড়িতে ওঠা মাত্র ব্যবসায়ীর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ওই ব্যবসায়ী এরপর পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, মোট পাঁচজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি তিনজনের হদিশ মেলেনি। মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী স্বরূপানন্দ বর্মন বলেন, ধৃতদের মধ্যে
একজন পরবর্তীকালে জামিন পেয়ে ‘ফেরার’ হয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
করা হয়। পাশাপাশি হুলিয়াও জারি
হয়। ফলে বিচার চলে কেবলমাত্র হাওড়ার টিকিয়াপাড়ার বাসিন্দা ধৃত আখতার হোসেন ওরফে গুলফানের বিরুদ্ধে। বিচার চলাকালীন সাক্ষ্য
দেন দশজন। সমস্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক অভিযুক্ত আখতারকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করেন। এদিন ওই অপরাধী মামলার রায়দানের আগে বিচারককে বলে, ‘আমার পরিবার‑পরিজন আছে। তাই আমাকে যেন কম সাজা দেওয়া হয়।’ যদিও তার জোরালো আপত্তি জানান সরকারি কৌঁসুলি।