নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা পুলিশ সহ বিভিন্ন ট্রাফিক গার্ডের হয়ে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা ফাঁদ পেতে সঞ্জীব নন্দী নামের এক অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার হাওড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে। কোন কোন ট্রাফিক গার্ডের কার কার কাছে সেই টাকা যেত, ধৃতকে জেরা করে তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের বেশ কিছু রাঘববোয়ালের নাম উঠে এসেছে বলে খবর।
টাকা দিলেই নো এন্ট্রি রাস্তায় ট্রাক চালানো যাবে। দিতে হবে না কোনো জরিমানা। শুধু কলকাতায় লরি চালাতে হলে নিতে হবে ‘কলকাতা পারমিট’। আর রাজ্যের অন্যত্র চালালে লাগবে ‘বেঙ্গল পারমিট’। কলকাতা, হাওড়া, বারুইপুর, বিধাননগরের একাধিক ট্রাফিক গার্ডের একশ্রেণির পুলিশকর্মী টাকার বিনিময়ে এই কারবার চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁদের হয়ে টাকা সংগ্রহ করতেন দালালরা। পালাবদলের পর এ নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে সরকারের কাছে। এই তদন্তভার রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার হাতে যায়। এরপরই ফাঁদ পেতে চক্রের এক মাথাকে ধরেন তদন্তকারীরা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, সংগঠিতভাবে এই চক্র চলছিল ২০১৪ সাল থেকে। পুরো চেন সিস্টেমে চলছে গোটা নেটওয়ার্ক। চক্রের মাথায় রয়েছে কয়েকজন অপারেটর। তাঁদের নীচে আছে একাধিক ‘গাইড’। ডানকুনি টোল প্লাজায় কোনো ট্রাক এসে দাঁড়ালেই ঘিরে ধরেন গাইডরা। তাঁরা আশপাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। তাঁরা লরিচালকদের প্রস্তাব দেন, কোনো বাধা ছাড়াই একমুখী রাস্তায় অনায়াসে যেতে পারবে ট্রাক। কোনো জরিমানা হবে না। প্রস্তাবে রাজি হলে গাইডরা ট্রাকচালকের নম্বর পাঠিয়ে দেয় অপারেটরদের কাছে। কিছুক্ষণের মধ্যে অপারেটর চালককে ফোন করে ২০০০-২৫০০ টাকা দাবি করে। সেই টাকা নেওয়া হয় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে। অনেকক্ষেত্রে নগদেও লেনদেন চলত। ট্রাকচালককে একটি নম্বর দেওয়া হত। যদি চালক কোথাও ধরা পড়েন, তাহলে ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে ছাড় পাইয়ে দিতেন নেটওয়ার্কের মাথারা।
তদন্তে জানা গিয়েছে, হাওড়া, কলকাতা, বারুইপুর, বিধাননগরে ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মীরা ওই অপারেটরদের বাজারে ছেড়ে রেখেছিলেন। তাঁদের হয়ে এই অপারেটরা টাকা তুলতেন বলে জানা গিয়েছে। একমুখী রাস্তায় গাড়ি চালানো, বেআইনি পার্কিং সহ বিভিন্ন বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা রেট চার্ট রয়েছে। তার সঙ্গে অপারেটররা আবার নিজেদের লাভের অঙ্ক জুড়ে দিয়ে চালকদের থেকে টাকা নিতেন বলে অভিযোগ। অপারেটরদের ডায়েরিতে থাকত পুলিশ কর্মীদের নাম। আগে কোনো লরি বা ট্রাক ধরা পড়লে প্রথমে জরিমানা করা হয়। এরপর অপারেটদের মাধ্যমে ওই গাড়ির মাসোহারা করিয়ে নেওয়া হয়। দালালের কাছ থেকে অপারেটদের নাম পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে কলকাতা সহ যে সমস্ত ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ কর্মীদের নাম উঠে আসবে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হবে বলে খবর।