Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

১০.৩ ডিগ্রিতেও শীত ‘উপভোগ’ কলকাতার

দশেই আটক কলকাতা। মঙ্গলবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার তা সামান্য বাড়ল। বেড়ে হল ১০.৩ ডিগ্রি। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার একচুলও এদিক-ওদিক হয়নি।

১০.৩ ডিগ্রিতেও শীত ‘উপভোগ’ কলকাতার
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দশেই আটক কলকাতা। মঙ্গলবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার তা সামান্য বাড়ল। বেড়ে হল ১০.৩ ডিগ্রি। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রার একচুলও এদিক-ওদিক হয়নি। তবে বেলা বাড়তেই দেখা দিলেন সূর্যদেব। কুয়াশা আর মেঘের চাদরে এই ক’দিন মুখ লুকিয়েছিল রোদ। তিনি ফের উঁকি দিলেন। সোয়েটার-জ্যাকেট হয়ে উঠল বোঝা। শহর শরীর থেকে খুলে ফেলল গরম জামা। কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও রোদ পোহাল কলকাতা। তারপর সূর্য অস্ত যেতেই ফের গরম জামার আশ্রয়। এমন চমত্কার আবহাওয়া বাঙালি বেশ উপভোগই করছে বলে জানাল এদিন।

Advertisement

কলকাতার আশপাশেও ঠান্ডার প্রকোপ ছিল। বারাকপুর, ক্যানিং ও মগরাতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি। দমদম ও সল্টলেকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যথাক্রমে ৯.৮ ও ১১.৪। বসিরহাট ও কাকদ্বীপে ৯.৫ ডিগ্রি। উলুবেড়িয়াতে ৮.৭ ও কল্যাণীতে ৮ ডিগ্রি। আর ডায়মন্ডহারবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খাতায় কলমে ঠান্ডা কিন্তু কলকাতা দুপুরবেলায় রুপোর মতো রোদে ভেসে গিয়েছে। উত্তাপের আঁচ পেয়েছে মানুষ। দুপুরে মৌলালিতে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তন্ময় সামন্ত। বললেন, ‘কয়েক মাস বাদে আর এরকম রোদে দাঁড়ানো যাবে না। আর এখন একটু রোদের জন্য হন্যে আমরা। ছায়ায় দাঁড়ালেই ঠান্ডা লাগছে।’
তবে সূর্য ডোবার পরই আবার সেই ঠান্ডা হাওয়া। জবুথবু হলেও মানুষের বক্তব্য, ‘যতদিন এমন ঠান্ডা থাকে, ততদিনই ভালো। আবার তো সেই গরম আর বৃষ্টি।’ অফিস শেষে বারুইপুর ফিরবেন ট্রেন ধরে। স্টেশনে দাঁড়িয়ে স্বপন বসু বললেন, ‘দুপুরের দিকে একটু গরম লাগছিল। কিন্তু এখন জ্যাকেট পরতেই হল।’ যে ঠান্ডার জন্য মানুষ কলকাতা ছেড়ে চলে যেতেন বেরাতে, সেই মানুষই এখন বলছেন, ‘ঠান্ডার আমেজ পাওয়ার জন্য আর কোথাও যেতে হবে না। এই কলকাতাই এখন যথেষ্ট।’ শিয়ালদহে চায়ের আড্ডায় এইসব নিয়েই আলোচনা চলল দিনভর। কেউ বললেন, ‘দমদম আর বারাকপুর কিন্তু এখনও ৯ ডিগ্রির ঘরেই থেকে গিয়েছে। কলকাতার তুলনায় ঠান্ডা সেখানে অনেকটাই বেশি।’ 
অনেকে এটাও জানালেন, গত কয়েকদিন ঠান্ডার জেরে শিশু ও প্রবীণরা বেশ বেগ পেয়েছেন। রোদ সেভাবে ওঠেনি। মেঘলা আবহাওয়ায় সমস্যা বাড়ছিল তাঁদের। কিন্তু বুধবার রোদ ওঠার ফলে যে ঠান্ডা এসেছে তা উপভোগ করার মতো। বাচ্চাদের স্কুল থেকে নিয়ে ফেরার সময় মায়েদের বক্তব্য, ‘সকালে ওদের ঘুম থেকে তুলে স্কুলে পাঠাতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে। এখন আবার এই রোদে ওরা গরম জামা গায়ে রাখতে চাইছে না।’ তবে এসব সমস্যা কোনও ব্যাপারই না শহরবাসীর কাছে। সবাইমিলে জমিয়ে উপভোগ করছে রোদমাখা ভরপুর শীত। 

সম্পর্কিত সংবাদ