Bartaman Logo
৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতা-শহরতলি, অডিটে চিহ্নিত ২৭ নির্মীয়মাণ ভবনকে ‘নোটিস’, ছাড়পত্র পেল ১৯২টি

তারাতলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে কলকাতা সহ একাধিক পুর এলাকার নির্মীয়মাণ বাড়ির অডিটের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার।

কলকাতা-শহরতলি, অডিটে চিহ্নিত ২৭ নির্মীয়মাণ ভবনকে  ‘নোটিস’, ছাড়পত্র পেল ১৯২টি
  • ৭ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলার ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে কলকাতা সহ একাধিক পুর এলাকার নির্মীয়মাণ বাড়ির অডিটের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে ১৫ আগষ্ট পর্য্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়। অডিটে ২৭টি এমন নির্মীয়মাণ বাড়ির ক্ষেত্রে ত্রুটি মিলেছে বলে বৃহস্পতিবার মিলন মেলায় ক্রেডাইয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বিল্ডিং প্ল্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বাড়িগুলি নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও সামান্য বদল করা হয়েছে। আবার কোথাও বড়সড় গাফিলতি সামনে এসেছে। এই সমস্ত বাড়িগুলি মূলত কলকাতা, হাওড়া, বরানগর সহ একাধিক পুর এলাকায় অবস্থিত বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই পর্বেই সব খতিয়ে দেখে একগুচ্ছ নির্মীয়মাণ ভবনকে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সবুজ সংকেতও দিয়েছে রাজ্য সরকার। 

Advertisement

কলকাতা সহ মোট ১৩টি পুরসভায় এই অডিট চালাচ্ছিল রাজ্যের গঠিত অডিট কমিটি। যার মাথায় রয়েছেন স্বয়ং পূর্ত সচিব অন্তরা আচার্য। এই কমিটির সমীক্ষায় ওই সমস্ত পুরসভায় মোট ১৯২ নির্মীয়মাণ বাড়িকে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। স্বাভাবিক ভাবেই ১৫ আগষ্টের পর থেকেই পুনরায় এই বাড়িগুলির নির্মাণ কাজ শুরু হবে। কিন্তু, যে বাড়িগুলিতে নির্মাণ সংক্রান্ত ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ কী? সূত্রের খবর, এই বিষয়ে এদিন ক্রেডাইয়ের সঙ্গে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। বৈঠক শেষে, অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই নোটিস মেলা ২৭টি বাড়ির নির্মাণকারীদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে। জানতে চাওয়া হবে, কেন তারা বেআইনিভাবে বিল্ডিং প্ল্যানের বাইরে গিয়ে কাজ করেছেন। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই আগামী দিনে এই বাড়িগুলির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। তবে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। 
তারাতলার নির্মীয়মাণ শেড বিপর্যয়ে মৃত্যু হয়েছিল ১৭ জনের। নির্মাণগত ত্রুটির কারণে ওই ঘটনা ঘটেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছিল। ঘটনায় মৃত এবং আহতদের আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেছে রাজ্য। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো মর্মেই বেআইনি নির্মাণকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। সেই লক্ষ্যেই বিশেষ অডিটের কাজ শুরু হয়। কিন্তু, এই সমস্যার পাকাপাকি সমাধান পেতে চাইছে রাজ্য। আর সেই কারণেই থার্ড পার্টি এজেন্সি বা কোনো বিশেষজ্ঞ সংস্থাকে দিয়ে প্রস্তাবিত বাড়ির বিল্ডিং প্ল্যান খুঁটিয়ে দেখে তবেই বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ