


বেঙ্গালুরু: দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে গতবার আইপিএল ট্রফি ঘরে তুলেছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কিন্তু অধরা মাধুরি প্রাপ্তির মুহূর্ত মধুর হয়নি। বরং চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে নেমে এসেছিল অমাবস্যার অন্ধকার। কাপ সেলিব্রেশনে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১১ জন অনুরাগী। শনিবার প্রয়াতদের শ্রদ্ধা জানিয়ে চিন্নাস্বামীতেই আইপিএলের নতুন মরশুমের সূচনা হল। এবং উদ্বোধনী ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতে বেঙ্গালুরুর সমর্থকদের মুখে ফের হাসি ফোটালেন বিরাট কোহলিরা। কার্যত টিমগেমেই টেক্কা দিল আরসিবি।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ৯ উইকেটে তুলেছিল ২০১। জবাবে ২৬ বল বাকি থাকতেই সহজ জয় পায় হোম টিম (২০৩/৪)। সৌজন্যে ‘কিং কোহলি’ শো। ৫টি চার ও ৫টি ছক্কা সহ ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন বিরাট। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত করেন দেবদূত পাদিক্কাল (২৬ বলে ৬১) ও ক্যাপ্টেন রজত পাতিদার (১২ বলে ৩১)। পক্ষান্তরে, বিফলে গেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ক্যাপ্টেন ঈশান কিষানের ৮০ রানের দুরন্ত ইনিংস।
২০২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে বেঙ্গালুরুর শুরুটা কিন্তু ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার ফিল সল্টকে (৮) ডাগ আউটে ফেরান জয়দেব উনাদকাট। তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলকে টানলেন বিরাট কোহলি ও দেবদূত পাদিক্কাল। দু’জনে ৪৫ বলে যোগ করেন ১০১ রান। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নেমে পাদিক্কাল উপহার দেন আগ্রাসী ইনিংস। তিনি ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন। পাদিক্কালের আউটের পর কোহলি ধরা দেন আগ্রাসী মেজাজে। ৩৩ বলে অর্ধশতরান পূরণের পরও থামেননি। ১৬তম ওভারে হার্শল প্যাটেলের প্রথম চার ডেলিভারিতে যথাক্রমে ৬,৪,৪,৪ হাঁকিয়ে কোহলি স্টাইলেই ফিনিশ করেন ম্যাচ। সেই সঙ্গে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু বুঝিয়ে দিল, এবার তারা কাপ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। আর কোহলি এমন ফর্মে থাকলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।
এদিন বোলিংয়ের শুরুটাও দাপটে করেছিল আরসিবি। ২৯ রানের মধ্যেই হায়দরাবাদের ৩ উইকেট ফেলেন জেকব ডাফি। আইপিএলে অভিষেক ম্যাচে ট্রাভিস হেড (১১), অভিষেক শর্মা (৭) ও নীতিশ কুমার রেড্ডিকে (১) আউট করে ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পান তিনি। তবে ঈশান কিষান খাদের কিনারা থেকে হায়দরাবাদকে টেনে তোলেন। ৮টি চার ও ৫টি ছক্কা সহ ৩৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস উপহার দেন ক্যাপ্টেন। আর শেষদিকে অনিকেত ভার্মার (৪৩) দাপটে দুশোর গণ্ডি টপকায় সানরাইজার্স। তবে জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।