Bartaman Logo
১৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

কোচির নেহরু স্টেডিয়ামে ঝুলল তালা, বিস্মিত জাতীয় দলের ফুটবলাররা, অন্য মাঠে অনুশীলন করাতে বাধ্য হলেন খালিদ

যত কাণ্ড ফেডারেশনে। আগামী ৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের ম্যাচে ভারতের সামনে হংকং। সাধ করে কোচিতে ম্যাচ আয়োজন করছে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা।

কোচির নেহরু স্টেডিয়ামে ঝুলল তালা, বিস্মিত জাতীয় দলের ফুটবলাররা, অন্য মাঠে অনুশীলন করাতে বাধ্য হলেন খালিদ
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যত কাণ্ড ফেডারেশনে। আগামী ৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বের ম্যাচে ভারতের সামনে হংকং। সাধ করে কোচিতে ম্যাচ আয়োজন করছে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। মূলত সমর্থকদের উন্মাদনা কাজে লাগানোই লক্ষ্য। কিন্তু ম্যাচের আগেই একরাশ লজ্জায় মুখ পুড়ল খালিদ ব্রিগেডের। বৃহস্পতিবার কোচির নেহরু স্টেডিয়ামে অনুশীলন করার কথা ছিল গুরপ্রীতদের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি ভেন্যু বদলানো হয়। স্টেডিয়ামের তালা ছিল বন্ধ। এমনকি, সাংবাদিক সম্মেলনও বাতিল করা হয়। সেটা জেনেই শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদল করে খালিদ ব্রিগেড। গোটা ঘটনায় অবাক ফুটবলাররা। কোচ খালিদ জামিলকে কারণ জিজ্ঞাসা করেন অনেকেই। খালিদ নাকি যুক্তি দেন, মাঠের মেরামতির জন্যই অনুশীলন স্থানান্তরিত হয়েছে। পরে কেরল ব্লাস্টার্সের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে প্রস্তুতি সারেন গুরপ্রীতরা। কিন্তু কেঁচো খুড়তে কেউটে বেরনোর জোগাড়।

Advertisement

জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের দায়িত্বে গ্রেটার কোচিন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। অভিযোগ, স্টেডিয়াম ভাড়া বাবদ কেরল ফুটবল সংস্থার কাছ থেকে বিপুল অর্থ বকেয়া তাদের। একাধিকবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কাজের কাজ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় দলের ম্যাচ পড়তেই অস্ত্র পেয়ে যায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। বকেয়া টাকা না পেলে কোনোমতেই ম্যাচ আয়োজনে নারাজ তারা। এমনকি, প্র্যাকটিসের জন্যও মাঠও দিতে চায় না স্টেডিয়াম ম্যানেজমেন্ট। সেই কারণেই তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। ড্রেসিং-রুমও বন্ধ ছিল। ঘটনা জানাজানি হতেই তোলপাড় শুরু। ফেডারেশনের কার্যকরী সচিব সত্যনারায়ণের বক্তব্য, ‘কেরল ফুটবল সংস্থার সঙ্গে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সমস্যা। এখানে ফেডারেশনকে দোষারোপ করা উচিত নয়। আমাদের জানালে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নিতাম। তবে সবাই আশাবাদী যে সমস্যা দ্রুত মিটবে।’ বোঝাই যাচ্ছে, ঘাড় থেকে দায় ঝেড়ে ফেলতে পারলেই বাঁচে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। কিন্তু স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষও ধোয়া তুলসিপাতা নয়। দেশের সম্মানের কথা না ভেবে টাকা আদায়ের জন্য জাতীয় দলকে গাড্ডায় ফেলে গর্হিত অপরাধই করেছেন তারা। আসলে নরম মাটিতে আঁচড়াতে সবাই ভালোবাসে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশের ফুটবলের সম্মানের কথা মাথায় রেখে জাতীয় দলের সঙ্গে এমনটা করা উচিত হয়নি।
এদিকে, ভারতীয় ফুটবলের কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করতে দরপত্র আহ্বান করেছিল ফেডারেশন। প্রথমে ঠিক ছিল, ১৯ মার্চ টেন্ডার খোলা হবে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ঠিক হয় ২৭ মার্চ দরপত্র খোলা হবে। সূত্রের খবর, শুক্রবার বিকেল চারটেয় টেন্ডার ওপেন করবেন কর্তারা। দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে কাদের হাতে ফুটবলের ব্যাটন থাকবে সেদিকে তাকিয়ে ফুটবল মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ