কোচি মার্সিডিজ দুর্ঘটনা: বিচারকের বাড়িতে তল্লাশি পুলিশের,বদলি সিটি পুলিশ কমিশনার
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৭
Prefer us on Google

কোচি, ২৮ অক্টোবর: গত রবিবারের কোচির মার্সিডিজ দুর্ঘটনার তদন্তে এবার তৎপর প্রশাসন। ঘটনার ৩ দিন পরেই অভিযুক্তের বাড়িতে চিরুনি তল্লাশি চালাল পুলিশ। আজ, কেরল হাইকোর্টের নির্দেশে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে ওই নাবালক ছেলেটির বিচারক বাবাকে। বাড়ি থেকে সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেছে তদন্তের দায়িত্বে থাকা ক্রাইম ব্রাঞ্চের একজন এসিপি এবং ফটোগ্রাফিক ব্যুরোর একটি দল। দল। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান সমালোচনার ফলে বদলি করা হয়েছে কোচি সিটি পুলিশ কমিশনার মহেশ কুমারকে। তাঁর সঙ্গে আরও চারজন পুলিশ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালকের বাবা ত্রিশূর জেলার ইরাঞ্জালাকুডার আদালতে কর্মরত। তার বিরুদ্ধে মোটরযান আইনের ১৯৯এ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই ধারায় নাবালকের দ্বারা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেইক্ষেত্রে তার অভিভাবক বা গাড়ির মালিককে দোষী ধরা হবে।

গত রবিবার ভোররাতে কোচিতে একটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল একটি মার্সিডিজ গাড়ি। স্টিয়ারিং সামলাচ্ছিল একজন ১৭ বছরের নাবালক। সেই গাড়ির ধাক্কায় মারা যান একজন স্কুটারআরোহী। ঘটনাটি ঘটে কেরলের এর্নাকুলামের চেরানাল্লুরে। মৃত ব্যক্তির নাম জয়বালকৃষ্ণান। তিনি মাঞ্জালির বাসিন্দা। প্রথমে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬ (১) ধারায় অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয় কিশোরের বিরুদ্ধে। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যায় তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তখনই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মৃতের পরিবার। থানার বাইরে বিক্ষোভের পরে কিশোরকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বিএনএসের ১০৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তাকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে হাজির করা হয়। বোর্ড তার জামিন মঞ্জুর করে। মৃতের পরিবার বিচারক ও তার ছেলের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। তাঁদের দাবি পুলিশ ওই নাবালকটিকে রক্ষা করতে একযোগে  কাজ করছে। 

তদন্তের ত্রুটি স্বীকার করে কেরলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সোমবার বিধানসভায় তিনি জানান, ‘প্রাথমিক এফআইআরে সঠিক ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর বিচারককেও কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না।’