আমেদাবাদ: টস জিতে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার বুলি শুনিয়েছিলেন অজিঙ্কা রাহানে। এমনই ‘ফিয়ারলেস’ ক্রিকেটের নমুনা যে, সবরমতীর পাড়ে ভরাডুবি হল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। ১৮১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে গেল গুজরাত টাইটান্স (১৮১-৫)। দলের ৫ উইকেটে জয়ে ক্যাপ্টেন শুভমান গিলই (৫০ বলে ৮৬) নায়ক। ফলে ষষ্ঠ ম্যাচেও জয়হীন থাকল নাইটরা। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে অবস্থান জোরালো হল শাহরুখের ফ্র্যাঞ্চাইজির।
টিম কম্বিনেশন থেকে স্ট্র্যাটেজি— নাইটদের সবই ভুলে ভরা। যেমন ক্যাপ্টেন, তেমনই কোচ অভিষেক নায়ার। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লে’র ছয় ওভার শেষে স্কোর ৩৭-৩। যেন আদ্যিকালের ক্রিকেট হচ্ছে! প্রথম বলেই আউট রাহানে (০)। অর্থাৎ, ‘গোল্ডেন ডাক’ ক্যাপ্টেন। এই ফরম্যাটে ক্রমশ রাহানেকে অসহায় দেখাচ্ছে। চেন্নাই ম্যাচের মতো শুরুতে সুনীল নারিনকে নামিয়ে তিনে আসতে পারতেন তিনি। তা নয়, ওপেন করতে এসে প্রথম ওভারেই ফিরলেন।
অঙ্গকৃশ রঘুবংশী (৮) এবং ফিন অ্যালেনের জায়গায় দলে আসা টিম সেইফার্ট (১৯) চতুর্থ ওভারের মধ্যে কাগিসো রাবাডার শিকার। ক্যামেরন গ্রিনকেও শুরুতে মনে হচ্ছিল টেস্ট খেলতে এসেছেন। সুইংয়ের সামনে বিব্রত দেখাচ্ছিল। ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না কিছুতেই। তুলনায় রভম্যান পাওয়েলকে (২৭) দেখাচ্ছিল আত্মবিশ্বাসী। ক্যারিবিয়ান তারকা ফেরার পর হাত খোলেন গ্রিন। রশিদ খানকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মারা ছক্কাই ঘটায় রূপান্তর। এরপর শটের ফুলঝুরিতে নাইট শিবিরে আশার সঞ্চার করেন গ্রিন। এবারের আসরে তাঁর প্রথম পঞ্চাশ আসে ৩৪ বলে। শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ৭৯ করেন অজি তারকা। তাতে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা। তাঁর জন্যই রানটা ১৮০’তে পৌঁছায়। কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে তিনি স্ট্রাইকই পেলেন না। এই সময়ে ৩৩ রানে ছয় উইকেট পড়ে। অনুকূল রায় (৯), রিঙ্কু সিং (১), রামনদীপ সিং (১৭) ফের ভরসা জোগাতে ব্যর্থ। আর কবে রান করবে জেনারেশন বোল্ড? গুজরাতের হয়ে উইকেট নিলেন রাবাডা (৩-২৯), মহম্মদ সিরাজ (২-২৩), অশোক শর্মা (২-৪৫), রশিদ খান (১-৪৪)।
জিততে হলে কলকাতাকে তাই শুরুতে আঘাত হানতে হত। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষে এক উইকেটে ৭১ তুলে ফেলে গুজরাত। শুভমানকে দেখায় বিধ্বংসী মেজাজে। তাঁর পঞ্চাশ আসে ২৭ বলে। গ্রিনের মঞ্চে জাঁকিয়ে বসে গিল মারেন ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা। সাই সুদর্শন (২২) ও জস বাটলার (২৫), ওয়াশিংটন সুন্দরের (১৩) সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন তিনি। শেষ পর্বে গ্লেন ফিলিপসের ১৯ রানের ইনিংস জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়।