সুকান্ত বেরা, কলকাতা; দেখতে দেখতে অতিক্রান্ত পঁচিশের আইপিএলের অর্ধেক পথ। স্পষ্ট হচ্ছে বিভাজনও। পাঁচটি দল ইতিমধ্যেই ঝুলিতে পুরে ফেলেছে ১০ পয়েন্ট। বাকি পাঁচটি দলের মধ্যে কেউ ছয় বা কেউ চার পয়েন্ট নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে কোনওক্রমে। নতুন করে পা হড়কে যাওয়া মানে প্লে-অফের সম্ভাবনা থেকে আরও দূরে সরে যাওয়া। এই আবহে সোমবার ইডেনে নামছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। প্রতিপক্ষ টেবল টপার গুজরাত টাইটান্স। মগডালে বসা গিল বাহিনীকে বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে টেনে নামিয়ে ফের জয়ের সরনিতে ফেরাই রাহানেদের কাছে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
ক্রিকেটে অবশ্য সবই সম্ভব। আর ফরম্যাট যখন টি-২০ তখন শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কোনওপক্ষই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে না। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য দরকার তাগিদ, সঠিক রণকৌশল ও মাঠে নেমে সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরা। যা অনেক সময় নাইটদের পারফরম্যান্সে চোখে পড়ে না। সত্যি কথা বলতে কী, সাতটি ম্যাচ খেলার পরেও কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত ঠিক করে উঠতে পারলেন না চূড়ান্ত একাদশ। একটা ম্যাচ ব্যতীত কুইন্টন ডি’কক ব্যর্থই বলতে হবে। তবুও তাঁকে খেলানো হচ্ছে নিয়মিত। কেন গুররাজকে পরখ করা হবে না? চেন্নাই হোক কিংবা মুম্বই তো দল কিংবা কম্বিনেশনে পরিবর্তন এনেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কেকেআরও পারবে। তবে সবার আগে দরকার আত্মসমীক্ষা।
পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে গত ম্যাচে স্পিন সহায়ক পিচে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। তাহলে রাহানে, রঘুবংশীরা স্পিনের বিরুদ্ধে স্বচ্ছন্দ্য নন, এটা ধরে নিতে হবে। তাহলে ইডেনে স্পিনিং ট্র্যাক না পাওয়া নিয়ে এতো বিতর্ক কেন! তার জন্য ক্যাপ্টেন রাহানেও কম যান না। এই ঘটনা দলের ফোকাস নড়িয়ে দিয়েছে। কথায় আছে ঠেকে শেখা। সেই কারণেই রবিবাসরীয় বিকেলে ইডেনে নাইটদের অনুশীলনে পিচ নিয়ে তেমন হেলদোল চোখে পড়ল না। কিউরেটর সুজন মুখার্জিও হাঁফ চেড়ে বেঁচেছেন। মোদ্দা কথা, পিচ যেমনই হোক, জিততে গেলে মাঠে নেমে সেরা পারফরম্যান্সটা মেলে ধরতে হবে। শাহরুখ খানের দল যত তাড়াতাড়ি এটা বুঝবে, ততই ভালো। না হলে খেতাব ধরে রাখার স্বপ্ন ক্রমশ ক্ষীণ হবে।
গুজরাত টাইটান্সকে হারাতে গেলে দ্রুত সাই সুদর্শন ও শুভমান গিলের ওপেনিং পার্টনারশিপ ভাঙতে হবে। সেক্ষেত্রে চাপে পড়ে যাবেন দুরন্ত ফর্মে থাকা বাটলারও। সেই কারণে নতুন বলে পেসার হর্ষিত, বৈভব কিংবা নর্তজের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে পাওয়া প্লে’তে বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিনকেও ব্যবহার করা যেতে পারে। শোনা যাচ্ছে মঈন ফিরতে পারেন। তাতে নাইটদের স্পিন অ্যাটাক শক্তিশালী হবে। তাহলে স্পিনের ইন্দ্রজালে নাভিঃশ্বাস তোলা যাবে গুজরাতের মিডল অর্ডারেও।
কেকেআরের ব্যাটিং যথেষ্ট শক্তিশালী। পাওয়ার প্লে’তে নারিন ঝড় তুলতে পারলে চাপে পড়ে যাবেন সিরাজ, আর্শাদ খানরা। পরের দিকে রাহানে, রিঙ্কু, রঘুবংশী, বেঙ্কটেশ আয়াররা ফর্মে থাকা প্রসিদ্ধকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবেন। শুরুটা ভালো হলে রশিদ খান, সাই কিশোরদের স্পিনকে ভোঁতা করে বড় রান তুলতে সমস্যা হবে না নাইটদের।