Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

লড়েও ইডেনে হারল নাইট রাইডার্স, লখনউয়ের হয়ে ঝোড়ো ব্যাটিং মিচেল মার্শ- নিকোলাস পুরানের

করব...লড়ব...জিতব...রে নয়, ইডেনে লখনউয়ের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নাইটরা লড়েও যেভাবে হারল, তাতে স্লোগান বদলে ফেলা উচিত —করব...লড়ব...হারব...রে...।

লড়েও ইডেনে হারল নাইট রাইডার্স, লখনউয়ের হয়ে ঝোড়ো ব্যাটিং মিচেল মার্শ- নিকোলাস পুরানের
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: করব...লড়ব...জিতব...রে নয়, ইডেনে লখনউয়ের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নাইটরা লড়েও যেভাবে হারল, তাতে স্লোগান বদলে ফেলা উচিত —করব...লড়ব...হারব...রে...। 
সত্যি বলতে কী, মিচেল মার্শ (৪৮ বলে ৮১) ও নিকোলাস পুরানের (৩৬ বলে অপরাজিত ৮৭) বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর  লখনউ ২৩৮-৩ তোলার পর একবারের জন্যও মনে হয়নি কেকেআর জিততে পারবে। আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ২০৬ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড রয়েছে নাইটদের। এবার টার্গেট তার চেয়েও অনেক বেশি। রাহানেরা ব্যাট করতে নামার আগেই অনেকেই ম্যাচের উপসংহার লিখে ফেলেছিলেন। অনেক নাইট রাইডার্স সমর্থকও ইনিংস বিরতিতেই বাড়ি ফেরার পথ ধরেন। কিন্তু লড়াই যে এতটা রোমাঞ্চকর হবে, তা ছিল অপ্রত্যাশিতই। নেপথ্যে অজিঙ্কা রাহানের অধিনায়কোচিত ব্যাটিং। রিঙ্কু সিংয়ের চোয়ালচাপা লড়াই।
শুরুতে ডি’কক (১৫) ফেরার পরেও হাল ছাড়েননি কেকেআর ক্যাপ্টেন। পাওয়ার প্লে’তে নারিনকে সঙ্গে নিয়ে স্কোর পৌঁছে দেন ৯০-১। দ্রুত বদলাতে থাকে ম্যাচের রং। শ্মশানের নিস্তব্ধতা থেকে উচ্ছ্বাসের তরঙ্গ ফেরে গ্যালারিতে। নারিন (৩০) আউট হলেও রাহানের ঝোড়া ব্যাটিং থামাতে পারেননি লখনউয়ের বোলাররা। সেই সঙ্গে বেঙ্কটেশের মারমুখী ব্যাটিং। জোড়া ফলায় জয়ের আশা জগিয়ে তোলে নাইট রাইডার্স। ২৬ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রাহানে। একটা সময় জয়ের জন্য নাইটদের দরকার ছিল ৯ ওভারে ১০৩ রান। হাতে ৮ উইকেট। ইডেনের পিচ যেন ব্যাটিং প্যারাডাইস। বোলারদের মৃত্যুপুরী। তাই এই টার্গেট কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। প্রবল চাপে শার্দূল ঠাকুর পর পর পাঁচটি ওয়াইড বল করে বসেন। কেকেআর শুধু অতিরিক্ত ২২ রান পেয়েছে। তার মধ্যে ওয়াইডের সংখ্যা ২০। এমন বোলিং নিয়েও একটা দল যখন ম্যাচ জিতে যায়, তখন বিপক্ষ দলের খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক।
আসলে কেকেআরের হারের জন্য কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের ভুলে ভরা কৌশল অনেকাংশে দায়ী। রাহানে (৬১) শার্দূলের বলে আউট হওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শাহরুখ খানের দলের ব্যাটিং। প্রশ্ন হচ্ছে, রাসেল কিংবা রিঙ্কুকে না নামিয়ে কেন রমনদীপ সিংকে আগে নামানো হলো? একেই বলে বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ! মাত্র ২৩ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে সুপার জায়ান্টস।
তেইশের মঞ্চে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে রিঙ্কুর ব্যাটিং তাণ্ডবে কেকেআরের নাটকীয় জয়ের স্মৃতি আরও তরতাজা। ইডেনের গ্যালারিও আশায় ছিল, রিঙ্কুর ব্যাটে আসবে আরও এক রুদ্ধশ্বাস জয়। কিন্তু একটা ভুলেই ভেস্তে গেল সব পরিকল্পনা। ১৯তম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকান রিঙ্কু। টার্গেট গিয়ে দাঁড়ায় ৬ বলে ২৪। বল পিছু চার রান। বিষ্ণুর প্রথম ডেলিভারিতে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে লড়াই জমিয়ে দিয়েছিলেন হর্ষিত। কিন্তু পরের বলে হয়নি কোনও রান। তৃতীয় বলে সিঙ্গলস। পরের তিন বলে দু’টি বাউন্ডারি ও ছক্কা হাঁকালেও ৪ রান কমে পড়ে। ইডেনে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে লখনউয়ের কাছে ৪ রানে হারটা বড় নয়, তাঁকে যেন বিদ্ধ করছিল ম্যাচ ফিনিশ করতে না পারার যন্ত্রণা। ম্যাচ জিততে না পারলেও রিঙ্কুরা মন জিতলেন। তাঁর লড়াই দেখে কিং খানের সেই বিখ্যাত সংলাপ মনে পড়ে যাচ্ছিল, ‘হার কর জিতনেওয়ালেকো বাজিগর ক্যাহতে হে...।’

Advertisement

 

স্কোরবোর্ড

লখনউ সুপার জায়ান্টস- মার্করাম বো হর্ষিত ৪৭, মার্শ ক রিঙ্কু বো রাসেল ৮১, পুরান অপরাজিত ৮৭, সামাদ বো হর্ষিত ৬, মিলার অপরাজিত ৪, অতিরিক্ত ১৩, মোট ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৩৮। উইকেট পতন ১-৯৯, ২-১৭০, ৩-২২১।
বোলিং: বৈভব ৪-০-৩৫-০, জনসন ৩-০-৪৬-০, বরুণ ৪-০-৩১-০, হর্ষিত ৪-০-৫১-২, নারিন ৩-০-৩৮-০, রাসেল ২-০-৩২-১।
কলকাতা নাইট রাইডার্স- ডি’কক এলবিডব্লু আকাশদীপ ১৫, নারিন কট মার্করাম বো দিগবেশ ৩০, রাহানে ক পুরান বো শার্দূল ৬১, বেঙ্কটেশ ক মার্করাম বো আকাশদীপ ৪৫, রামনদীপ ক মার্করাম বো বিষ্ণোই ১, রঘুবংশী ক পন্থ বো আভেশ ৫, রাসেল ক মিলার বো শার্দূল ৭, রিঙ্কু অপরাজিত ৩৮, হর্ষিত অপরাজিত ১০, অতিরিক্ত ২২, মোট ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৩৪। উইকেট পতন: ১-৩৭, ২-৯১, ৩-১৬২, ৪-১৬৬, ৫-১৭৩, ৬-১৭৭, ৭-১৮৫। 
বোলিং: আকাশদীপ ৪-০-৫৫-২, শার্দূল ৪-০-৫২-২, আভেশ ৪-০-৪৫-১, দিগবেশ ৪-০-৩৩-১, বিষ্ণোই ৪-০-৪৭-১। 
 লখনউ ৪ রানে জয়ী।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ