Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

গুজরাতকে হারিয়ে আশা জিইয়ে রাখল নাইট রাইডার্স

ইডেনে নাইটদের শততম ম্যাচ হয়ে উঠল স্মরণীয়। গুজরাত টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে প্লে-অফের আশা জিইয়ে রাখল সোনালি-বেগুনি শিবির।

গুজরাতকে হারিয়ে আশা জিইয়ে রাখল নাইট রাইডার্স
  • ১৭ মে, ২০২৬ ০৯:৫০
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: ইডেনে নাইটদের শততম ম্যাচ হয়ে উঠল স্মরণীয়। গুজরাত টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে প্লে-অফের আশা জিইয়ে রাখল সোনালি-বেগুনি শিবির। ২৪৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুভমান গিল ব্রিগেডের সংগ্রহ ২১৮-৪। আপাতত ১২ ম্যাচে ১১  পয়েন্ট, বাকি দুটো ম্যাচ জিতলে প্রথম চার দলের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা কলকাতার। রাতের নন্দনকানন তাই মাতল করব, লড়ব, জিতব রে সুরে। ভিআইপি বক্সে বসা ‘সিনিয়র’ গিলকে যদিও দেখাল বিধ্বস্ত!

Advertisement

টস হেরে ব্যাট করতে নামা নাইটদের বড় ইনিংসের ভিত গড়েন বিধ্বংসী ফিন অ্যালেন। শুরু থেকেই তাঁর ব্যাটে কালবৈশাখী। অবশ্য ১৪ ও ৩৩ রানে জীবনদান মেলে। মহম্মদ সিরাজের বলে জেসন হোল্ডারের ক্যাচটা কঠিনই ছিল। তুলনায় হোল্ডারের বলে সিরাজ ফেলেন একেবারে সহজ ক্যাচ। সুযোগ দু’হাতে আঁকড়ে ধরতে ভুল হয়নি কিউয়ি ওপেনারের। মাত্র ২১ বলে আসে পঞ্চাশ। শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে করেন ৯৩। মরশুমের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি নিশ্চিত দেখাচ্ছিল। কিন্তু সাই কিশোরকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে তোলেন ক্যাচ। ফিনের ইনিংস সাজানো ১০টি ছয় ও ৪টি চারে। ক্যাপ্টেন রাহানে (১৪ বলে ১৪) ফের ব্যর্থ। তিনি এমনভাবে বল ছাড়ছিলেন যেন পাঁচদিনের ফরম্যাটে খেলতে নেমেছেন। মারার চেষ্টাই উধাও। কে বোঝাবে, এই ঘরানায় মানসিকভাবেই ডায়নোসর যুগে পড়ে রয়েছেন নাইট রাইডার্সের ক্যাপ্টেন! 
অঙ্গকৃশ রঘুবংশী (৪৪ বলে অপরাজিত ৮২), ক্যামেরন গ্রিনের দাপটে (২৮ বলে অপরাজিত ৫২) কলকাতা শেষ পর্যন্ত ২ উইকেটে পৌঁছায় ২৪৭ রানের স্বস্তির স্টেশনে। অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেটে ৫৩ বলে তাঁরা তোলেন ১০৮। এবারের আসরে শাহরুখের ফ্র্যাঞ্চাইজির এটাই সর্বাধিক স্কোর। অ্যালেনের মতো ভাগ্যের সহায়তা গ্রিন, অঙ্গকৃশরাও পান। রশিদের বলে গ্রিনের সহজ ক্যাচ ফেলেন আর্শাদ খান। আর রাবাডার বলে অঙ্গকৃশের ক্যাচ পড়ে ওয়াশিংটন সুন্দরের হাত থেকে। মোট চারটি ক্যাচ ফেলে টাইটান্সরা। দুঃস্বপ্নের ফিল্ডিংয়ে প্রচুর রানও গলায় গুজরাত। ক্রিকেটের প্রাচীন প্রবাদকে মনে করিয়ে ম্যাচে জেতেননি গিলরা!
প্রায় আড়াইশো তাড়া করে জিততে হলে শুরুতেই ঝড় তুলতে হত গুজরাতকে। কিন্তু সাই সুদর্শন রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় তালটাই গেল কেটে। প্রথম বিদেশি হিসেবে আইপিএলে ২০০তম ম্যাচে নেমে পয়লা বলেই আঘাত হানেন সুনীল নারিন। ফেরান নিশান্ত সিন্ধুকে (১)। গিল  ও বাটলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তা যথেষ্ট ছিল না। আস্কিং রেট ক্রমশ নাগালের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ৮৫ রান করে গিল ফিরতেই কলকাতার জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। তিনিও ফেরেন নারিনের বলে। বাটলার ৩৫ বলে ৫৭ করে সৌরভ দুবের বলে ডাগ-আউটে ফেরেন। চাপের মুখে চোট উপেক্ষা করে মাঠে নেমেও দিশা দিতে ব্যর্থ সুদর্শন (অপরাজিত ৫৩)।
জয়ের সুবাসেও নাইটদের কাঁটা হয়ে বিঁধছে মরশুমে প্রথমবার নামা মাথিশা পাথিরানার চোট। ডান পায়ে টান ধরায় আট বলের বেশি করতে পারেননি শ্রীলঙ্কার পেসার। যা দাঁড়াচ্ছে, পাথিরানার এই আট বলের মূল্য ১৮ কোটি টাকা!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ