মুল্লানপুর: একটা হারে বদলে গিয়েছে আবহ। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ আত্মসমর্পণের পর থমথমে কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবির। মাত্র ১১২ রান কেন তাড়া করা গেল না, চলছে ময়নাতদন্ত। মঙ্গলবার রাতেই ডাগ-আউটে কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতকে দেখা গিয়েছিল মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে। বিশ্বাসই হচ্ছে না ৭.৩ ওভারে ৬২-২ ওঠার পর নাইটরা ১৫.১ ওভারে ৯৫ রানে গুটিয়ে গিয়েছে। দ্রুত ম্যাচ শেষ করলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থানে ওঠার হাতছানি ছিল সামনে। কিন্তু পরাজয়ের পর ষষ্ঠ স্থানে নেমে এসেছে কলকাতা। শ্রেয়স আয়ার বাহিনীর হাতে হারের ধাক্কা এতটাই যে ম্যাচের পর ড্রেসিং-রুমে শাহরুখ খানের বার্তা পড়া হয়নি। অথচ, দল জিতুক কিংবা হারুক, বলিউডের বাদশা নিয়ম করেই মেসেজ পাঠান। মোবাইলে তা পড়ে শোনান সিইও বেঙ্কি মাইসোর। এই পরাজয়ের পর শিবিরের কোনও ভিডিওই পোস্ট করেনি কেকেআর। পরিষ্কার, ১৬ রানে পরাজয় কিছুতেই হজম করতে পারছে না গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে মেনে নিয়েছেন যে, পরিস্থিতি অনুসারে ব্যাটিং করতে ব্যর্থ হয়েছে দল। মিডিয়ার সামনে ব্যাটিং বিভাগকে একহাত নিয়ে তাঁর স্বীকারোক্তি, ‘পাটা উইকেট। বোলারদের জন্য খুব সামান্য সহায়তা মজুত ছিল। পরিকল্পনামাফিক ব্যাট করতে হতো। টি-২০ ক্রিকেটেও কখনও কখনও বোলারকে মেডেন দিতে হয়। কখনও আবার ৭০-৮০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা জরুরি হয়ে ওঠে। সবটাই পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। শুধু ছক্কা মারলেই চলে না, খুচরো রানের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ ব্যাটার বড় শটের চেষ্টা করে বিপদ ডেকে এনেছে। কিন্তু কেউ পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করেনি। একজন ব্যাটারের দরকার ম্যাচ সম্পর্কে সচেতনতা। আর সেখানেই ঘাটতি ছিল আমাদের।’ আত্মমীক্ষার ডাক দিয়েছেন রাহানে।
অবশ্য পরাজয়ের দায় অস্বীকার করতে পারেন না তিনিও। রিভিউ নিলে যুজবেন্দ্র চাহালের বলে এলবিডব্লু হতেন না তিনি। নন-স্ট্রাইকার অঙ্গকৃষ রঘুবংশী নিশ্চিত না থাকায় ডিআরএস নিতে পারেননি, ব্যাখ্যা তাঁর। এখন সামনের দিকে তাকাচ্ছেন রাহানে, ‘নেতা হিসেবে দায় নিচ্ছি। আমি নিশ্চিত, প্রত্যেক ব্যাটার নিজেদের খেলা নিয়ে ভাববে, উন্নতির চেষ্টা করবে। তবে আমরা আত্মতুষ্ট ছিলাম না। ব্যাটিং বিভাগ সম্মিলিতভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এমন নয় যে পাঞ্জাব অসাধারণ বল করেছে। তিন-চারটে উইকেট পড়ার পর সংযত হওয়া উচিত ছিল। সময় নিয়ে খুচরো রানে মন দিতে হতো। যাই হোক, প্রতিযোগিতার অর্ধেক হয়ে গেল। সাতটা ম্যাচ খেলে ফেলেছি। আরও সাতটা বাকি। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।’
এদিকে, পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচে সুনীল নারিন ও অ্যানরিখ নর্তজের ব্যাট ফেল করে টেস্টে। রান তাড়া করতে নামার আগে ‘গজ’ টেস্টে পাশ করেনি নারিনের ব্যাট। রিজার্ভ আম্পায়র সৈয়দ খালিদের সঙ্গে এই ব্যাপারে তখন কথা বলেন বাঁ-হাতি ওপেনার। ইনিংসের শেষের দিকে ১১ নম্বরে নামা নর্তজের ব্যাটও পরীক্ষায় পাশ করেনি। নর্তজের জন্য অন্য ব্যাট নিয়ে যান রহমানুল্লাহ গুরবাজ। সেই ব্যাট পরীক্ষায় পাশ করে। তবে কোনও বল খেলতে হয়নি নর্তজেকে। তার আগেই দাঁড়ি পড়ে ইনিংসে।