Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কঙ্কালীতলায় তৃণমূল নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা, চাঞ্চল্য  

কঙ্কালীতলায় তৃণমূল নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা, চাঞ্চল্য
 
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: রবিবার রাতে ফের এক তৃণমূল নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা পড়ল। ‌ওই নেতার নাম আলেফ শেখ। তিনি কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের অঞ্চল আহ্বায়কের দায়িত্ব রয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিস। আলেফ, কাজল শেখের অনুগামী বলে পরিচিত। খবর পেয়েই সোমবার সকালে তাঁর বাড়ি ঘুরে দেখেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি। সেখানে, এই ঘটনায় একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজের বিধানসভা ক্ষেত্র নানুরের সিয়ান মুলুক যে দুষ্কৃতীদের আখড়া হয়ে উঠেছে, তা তিনি এক কথায় স্বীকার করে নেন। যদিও বিষয়টিকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলেই দাবি করেছে বিরোধীদল বিজেপি। জানা গিয়েছে, রবিবার রাত দশটা নাগাদ আলিফ শেখের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মেরে পালায় দুষ্কৃতীরা। সেই সময়ে তিনি শান্তিনিকেতন থানার ফুলডাঙার তৃণমূল কার্যালয়ে ছিলেন। তবে তাঁর স্ত্রী ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়ে সেই বাড়িতে ছিলেন। বোমার বিকট আওয়াজে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।‌ খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন আলতাফ শেখ। শান্তিনিকেতন থানার ওসি কস্তুরী মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছন। যদিও এই ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। 
Advertisement
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, গত জানুয়ারি মাসে ওই এলাকারই বাসিন্দা তথা কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মোহাম্মদ অহিউদ্দিন ওরফে মামনের বাড়িতে বোমাবাজি হয়েছিল। মামন কাজল শেখের সঙ্গ ছেড়ে জেল ফেরত অনুব্রত মণ্ডলের গোষ্ঠীতে যুক্ত হন। ঘনিষ্ঠ মহলের খবর, এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন কাজল। তাই, মামন কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পদে থাকলেও নানুরের বিধায়ক বিধান মাজি তাঁকে কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেন। তার পরিবর্তে তিনি এলাকা পরিচালনার জন্য আলেফ শেখ সহ মোট ছয়জনের একটি কোর কমিটি গঠন করেন। সেই আলেফের বাড়িতে বোমাবাজির পর রাজনৈতিকভাবে ওই এলাকা সরগরম। এদিন আলেফের বাড়ি ঘুরে দেখার পর কাজল বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই আলেফের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে। এমনকী উনি প্রাণনাশের আশঙ্কা করেছেন। তাঁর বাড়িতে বোমাবাজি হয়েছে, এটা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। যা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। দু’ বছর আগে নানুরে বারুদের গন্ধ ছিল না। আবার নতুন করে কেন হচ্ছে তা বলতে পারব না। যে বা যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিসকে কড়া পদক্ষেপ নিতে বলব। কারণ, এই সিয়ান মুলুক এলাকা দুষ্কৃতীদের ডেরা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানুর তথা নানা এলাকা থেকে সমাজবিরোধীরা এসে বাসা বেঁধেছে। সেই বাসা ধ্বংস করে তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। পুলিস চাইলে এই অপরাধীদের তালিকা তাদের হাতে তুলে দেব।
বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্ন্যাসীচরণ ওরফে অষ্টম মণ্ডল ঘটনাটিকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েতে কেষ্ট ও কাজল অনুগামীদের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে। এই বোমাবাজি তারই উদাহরণ। যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তত্ত্ব নস্যাৎ করেছেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়, এটা দুষ্কৃতীদের কাজ, পুলিস তদন্ত করলেই তা সামনে আসবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ