Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কেন্দ্রীয় সরকারের আইনের গেরো, কোন্নগরের বিসর্জন ঘাট তৈরির কাজ এখনও বিশবাঁও জলে

কেন্দ্রীয় সরকারের আইনের গেরো, কোন্নগরের বিসর্জন ঘাট তৈরির কাজ এখনও বিশবাঁও জলে
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: এ যেন ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রির গল্প। অন্তত এমনই মনে করছে কোন্নগর পুরসভা কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় সরকারি নিয়মের জালে পুরসভার প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট তৈরির প্রকল্প লাটে উঠতে বসেছে। কোন্নগরের গঙ্গায় যন্ত্রের মাধ্যমে দুর্গা, কালীর মতো বড় আকারের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেছিল পুরসভা। কিন্তু গঙ্গার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সংস্থা পোর্ট ট্রাস্টের হাতে। তাই তাদের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই কাজের জন্য পোর্ট ট্রাস্ট সরকারিভাবে চিঠি দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা চেয়েছে। সে টাকা চাওয়া হয়েছে পরিদর্শন ও অনুমোদন খাতে। তাতেই পুরকর্তাদের চোখ কপালে।
Advertisement
প্রকল্প বাঁচাতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের মাধ্যমে সম্প্রতি তদ্বির করা হয়েছিল। তার জেরে পোর্ট নতুন করে চিঠি দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেছে। যদিও পুরকর্তাদের দাবি, বিসর্জনের যন্ত্রচালিত ঘাট তৈরির খরচই ধরা হয়েছে সাত লক্ষ টাকা। তার মধ্যে যদি পোর্টকেই পাঁচ লক্ষ দিতে হয়, তাহলে প্রকল্পের ব্যয়ভার বহন করাই কঠিন। পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, ‘আমাদের ঢাকের দায়ে মনসা বিক্রির দশা। রাজ্যের মন্ত্রী আবেদন করার পরও মাত্র পাঁচ লক্ষ মকুব করা হয়েছে। আমরা কোনও ব্যবসা করছি না। মানুষের কাঁধে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা সে দুর্ঘটনা এড়াতে চেয়েছি। এখন যা পরিস্থিতি তাতে প্রকল্পের থেকে বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘খাজনা’ মেটাতে।’ তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি জেলার চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র বলেন, ‘নিয়ম মানুষের জন্য না কি নিয়মের জন্য মানুষ। হতেই পারে পোর্ট ট্রাস্টের কোনও নিয়ম আছে। কিন্তু মানুষের জীবন রক্ষা, উন্নয়নের কাছে সে নিয়ম বাদ রাখতে হয়। হুগলির সমস্ত পুরসভা রেল দপ্তরের কাছে বহু টাকা কর বাবদ পায়। সে কর রেল বছরের পর বছর ধরে দেয় না। তাহলে কি আমরা স্টেশনগুলি উঠিয়ে দেব? কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে সর্বত্র বঞ্চনা করছে, শোষণ করছে।’ পোর্ট ট্রাস্টের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের একটি লঞ্চ ও বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের জায়গা পরিদর্শনে যাবেন। সে সবের খরচ আছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া আমরা কোনও অনুমতি দিতে পারি না। তাতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী এ নিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। আমরা অর্ধেক ব্যয় মকুব করে দিয়েছি।’
দু’পক্ষের বিবাদের মাঝে পড়ে এ প্রকল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পুর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রকল্প শুরু করার জন্য সমস্ত কিছু তৈরি ছিল। কিন্তু পোর্টের দাবির জেরে তা হিমঘরে 
যেতে বসেছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ