নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অভিষিক্তা হয়ে গরফা বা যাদবপুর থানা যেতে পাড় করতে হয় মণ্ডলপাড়া ব্রিজ। বাইপাস হয়ে আসা মানুষকে এই পথ ধরে সেতু পাড় করার পর সাপুইপাড়া মোড় হয়ে গাড়ি, অটো, রিকশ বা বাসে গরফার দিকে যেতে হয়। অন্যদিকে, কালিকাপুর হয়ে ঘুরপথেও গরফা ঢোকা যায়। তাই এবার সাপুইপাড়া না ঘুরেই যাতে ছোট গাড়ি কিংবা বাইকে গরফা, কাঁটাপুকুর অঞ্চলের বাসিন্দারা সরাসরি বাইপাসগামী রাস্তা ধরতে পারেন, তাই মণ্ডলপাড়া সেতুর নতুন ফ্রাঙ্ক বা উইং তৈরির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন কেএমডিএর (কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) আধিকারিকরা।
বর্তমানে ই এম বাইপাস থেকে অভিষিক্তা হয়ে যাদবপুর, গরফা, রামলালবাজার যেতে হলে এই মণ্ডলপাড়া সেতু পাড় করতে হয়। ব্রিজে ওঠার আগেই বাঁ হাতে সিঁড়ি দিয়ে নেমে খালপাড় বরাবর চলে গিয়েছে বিহারী মণ্ডল রোড। সেই রাস্তা ধরে হেঁটে গরফা চলে যাওয়া যায়। এখানে রয়েছে কাঁটাপুকুর ও মণ্ডলপাড়া এলাকা। কিন্তু এই পথে বাইকে বা গাড়ি ধরে বর্তমানে যাতায়াত সম্ভব নয়। গোটা কাঁটাপুকুর কিংবা মণ্ডলপাড়া অঞ্চলের বাসিন্দাদের তাই সেই সাপুইপাড়া ঘুরেই বাইপাস কিংবা যাদবপুর যাতায়াত করতে হয়।
অন্যদিকে, কালিকাপুর হয়েও অনেকটা ঘুরে বাইপাসে ওঠার সুযোগ রয়েছে। মণ্ডলপাড়া ব্রিজের নীচে খালপাড় বরাবর বিহারী মণ্ডল রোডও আগে ছিল অপরিসর, ভাঙাচোরা। বর্তমানে সেই পথ মসৃণ এবং প্রশস্ত হয়েছে। এবার তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের বহুদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে গরফা, মণ্ডলপাড়া, কাঁটাপুকুর অঞ্চলকে সরাসরি ই এম বাইপাস কানেক্টরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা হয়েছে। এজন্য মণ্ডলপাড়া ব্রিজ থেকে আরও একটি উইং নামানো হবে। স্থানীয় ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অরিজিৎ দাস ঠাকুর বলেন, সেতু থেকে এই নতুন উইং বা রাস্তা হয়ে গেলে বিহারি মণ্ডল রোড দিয়ে সরাসরি গরফা মেইন রোডে ওঠা যাবে। সাপুইপাড়া হয়ে ঘুরে যেতে হবে না। তাছাড়া, সমগ্র মণ্ডলপাড়া, কাঁটাপুকুর অঞ্চলের মানুষকে আর কালিকাপুর অথবা গরফা হয়ে বাইপাস উঠতে হবে না। তারা সরাসরি ওই পথ ধরেই অভিষিক্তা হয়ে বাইপাস উঠে যেতে পারবেন। এজন্য মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং স্থানীয় বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারকে ধন্যবাদ।
জানা গিয়েছে, এই মণ্ডলপাড়া ব্রিজের এই শাখা সেতু তৈরি হয়ে গেলে এই পথে চার চাকার যানবাহন চলাচল করবে। তাই, সংযুক্ত বিহারী মণ্ডল রোডটিকেও আরও দৃঢ় করতে ম্যাস্টিক করে দেওয়া হবে।