নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন কেএলও প্রধান জীবন সিংহ। বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহের সুর সপ্তমে। নিশানায় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্থানীয় বিজেপি নেতাদের ‘বিশ্বাসঘাতক, গদ্দার’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। ওইসঙ্গে জীবনের হুংকার—এখানে কোচ, কামতাপুরি ও রাজবংশিদের বিরোধিতা করে রাজনীতি করা যাবে না। বিজেপির সন্ত্রস ও পুলিশি জুলুম বন্ধ না-হলে বিশ্বাসঘাতক বিজেপি নেতাদের তৃণমূল কংগ্রেসের মতোই উৎখাত করা হবে। এনিয়ে দলের ‘ভদ্রাসন’ উত্তরবঙ্গে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি। দলের উত্তরবঙ্গের নেতা-মন্ত্রীরা বিষয়টি বিভিন্ন অছিলায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।
ছাব্বিশের ভোটের আগে বিভিন্ন সময় তৃণমূল ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়েছেন কেএলও চিফ। সওয়াল করেছেন বিজেপির পক্ষে। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করলেন কেএলও প্রধান! বিজেপির বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে একটি ভিডিয়ো পোস্ট (এর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’) করেছেন তিনি।
ভিডিয়োতে জীবনের দাবি, কোচবিহারবাসীর উপর তৃণমূলের অত্যাচার নিয়ে অনেক কথা বলেছিলেন মোদি ও শাহ। সেইমতো ২০১৪ থেকে অনন্ত মহারাজের নেতৃত্বে জিসিপিএ, কেপিপি-সহ বিভিন্ন সংগঠন একজোট হয়ে বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে। মমতার তৃণমূলের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কোচ, কামতাপুরি, রাজবংশি মানুষই লড়াই করেছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন তিনিও। বিজেপি করার জন্য ব্যাপক অত্যাচারিত হয়েছেন কোচ, কামতাপুরিরা। কিন্তু কোচ, রাজবংশি, কামতাপুরিবাসী ও কোচবিহারের জন্য এখন কী করছে বিজেপি? অনন্ত মহারাজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন গদ্দার, ফেরেববাজ স্থানীয় বিজেপি নেতারা!
বিজেপিকে উৎখাতেরই হুমকি দিয়েছেন জীবন। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূলের অত্যাচারের সময় বিজেপির স্থানীয় নেতারা কোথায় ছিলেন? কোচ, কামতাপুরি, রাজবংশিদের ভোটেই জিতেছে বিজেপি। এখন আলিপুরদুয়ারের শালকুমার ও কুমারগ্রামে অত্যাচার চালাচ্ছে গদ্দাররা। পুলিশি সন্ত্রাস ও দলীয় জুলুমবাজি আর বরদাস্ত নয়। তৃণমূলের মতোই উৎখাত হবে বিজেপি। রাজ্যের মন্ত্রী মালতী রাভা এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। একাধিকবার ফোন করেও বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের সাড়া মেলেনি।
শনিবার বামনহাটে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন দলীয় এমপি অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গসহ রাজ্যে বিজেপিকে তিনিই এনেছেন। তাঁর খেদ, কিন্তু বিজেপি ‘কুত্তাকে’ পুছলেও তাঁকে পোছে না! -ফাইল চিত্র