গুয়াহাটি: ঘরের মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে হার। সেই ধাক্কা সামলে প্রথম জয়ের খোঁজে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বুধবার রাহানেদের প্রতিপক্ষ রাজস্থান রয়্যালস। মরুরাজ্যের দলটিও হোঁচট খেয়েছে শুরুতে। তবে সানরাইজার্সের বিরুদ্ধে ২৮৭ রান তাড়া করতে নেমে সঞ্জু স্যামসনরা তুলেছিলেন ২৪২। শেষ পর্যন্ত ৪৪ রানে হারলেও ধ্রুব জুরেল, হেটমায়ারদের চোয়ালচাপা লড়াই প্রশংসিত হয়েছিল ক্রিকেট মহলে। সেই নিরিখে অনেকেই মনে করছেন, বর্ষাপাড়ার পিচে কেকেআরের বোলারদের আবারও এক অ্যাসিড টেস্ট।
আইপিএলে লিগ পর্যায়ে ওঠানামা চলতেই থাকবে। তবে চ্যাম্পিয়নরা যদি প্রথম ম্যাচেই মুখ থুবড়ে পড়ে, তাহলে তো সমালোচনা হবেই। বিশেষ করে, যে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের হাতে কেকেআর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত বলে ভাবা হচ্ছিল, তাঁরাই (বেঙ্কটেশ আয়ার, রিঙ্কু সিং, আন্দ্রে রাসেল) ডুবিয়েছিলেন ইডেনে। না হলে স্কোর অনায়াসেই দুশোর গণ্ডি টপকে যেত। তার ভিত গড়ে দিয়েছিলেন রাহানে, নারিনরা। কিন্তু মিডল এবং লোয়ার অর্ডারে অনেক খামতি চোখে পড়েছে। কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত তা বুঝতে পারলে ভালো। না হলেই সমস্যা আরও মাথা চাড়া দেবে। ফাঁক-ফোকর দ্রুত ভরাট না করতে পারলে, রাজস্থানের বিরুদ্ধেও কিন্তু সমস্যায় পড়বে কেকেআর।
দল নিয়ে হয়তো খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যাবে না কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই হিসেবে কুইন্টন ডি’ককেরই ওপেন করা উচিত। সঙ্গী অবশ্যই রাহানে। নেতৃত্বের চাপ নিয়েও ইডেনে তিনি দুর্দান্ত হাফ-সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছিলেন। সুনীল নারিনও ছন্দে। বাকি ব্যাটসম্যানরা একটু দায়িত্বশীল হলে জয়ের সরণিতে ফিরতে কেকেআরের খুব বেশি অসুবিধা হবে না। বোলিং কোচ ভরত অরুণ বলেছেন, ‘গত ম্যাচে আরসিবি’র বিরুদ্ধে আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি, বিশেষ করে মিডল অর্ডারে। ভুল শুধরে জয়ের পথে ফেরার ব্যাপারে ছেলেরা প্রত্যয়ী।’
তবে মনে রাখা দরকার, বিপক্ষ শিবিরে রয়েছে যশস্বী জয়সওয়াল, সঞ্জু স্যামসন, রিয়ান পরাগের মতো মারকুটে ব্যাটসম্যান। পাওয়ার প্লে অর্থাৎ প্রথম ছ’ওভারে তাঁরা রানের বন্যা বইয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তাই কোনওভাবেই এই তিন ব্যাটসম্যানকে থিতু হতে দেওয়া যাবে না। নতুন বলে বৈভব অরোরা, হর্ষিত রানার ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানরিখ নর্তজে ফিট থাকলে খেলতে পারেন স্পেনসর জনসের জায়গায়। তবে বরুণ চক্রবর্তীর উপর প্রত্যাশার চাপ বাড়ছে। ইডেনে বিরাটের সঙ্গে ডুয়েলে তিনি ডাহা ফেল। তবে বরুণ ম্যাচ উইনার। একটু টার্ন পেলেই তিনি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবেন। চাপ শুষে কীভাবে সেরাটা দিতে হয়, তা ভালোই জানেন তারকা স্পিনার। তবে এবারের আইপিএলেও ইমপ্যাক্ট প্লেয়াররা বড় ভূমিকা পালন করছেন। এক্ষেত্রেও মুন্সিয়ানার পরিচয় দিতে হবে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টকে।
রাজস্থানের বোলিংও আহামরি নয়। চাপে পড়লে প্রচুর রান দেয়। জোফ্রা আর্চার, ফজলহক ফারুখি কিংবা সন্দীপ শর্মারা গত ঝুড়ি ঝুড়ি রান দিয়েছিলেন। সেটাই চিন্তায় ফেলেছে রাজস্থানের কোচ রাহুল দ্রাবিড়কে। অটোমেটিক হুইলচেয়ারে বসেই প্র্যাকটিসে তাই ছেলেদের টিপস দিলেন তিনি।
খেলা শুরু সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিটে। স্টারস্পোর্টস ও জিওহটস্টারে সরাসরি সম্প্রচার।