Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনেই ছন্দে নাইটরা

নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনেই ছন্দে নাইটরা
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আক্রমণাত্মক তো বটেই, তবে তা বেপরোয়া, লাগামহীন নয়। লক্ষ্মীবারের ইডেনে হায়দরাবাদের সূর্যাস্তের নেপথ্যে রয়েছে কেকেআরের নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন। মেন্টর ডোয়েন ব্রাভোর মতে, এটাই ‘স্মার্ট’ ক্রিকেট। আদতে যা প্রতি বলে ছক্কা হাঁকানোর বাউন্ডুলেপনাকে বিসর্জন দিয়ে পরিস্থিতিকে মান্যতা দেওয়া। চুম্বকে, দলীয় চাহিদা অনুসারে অ্যাডজাস্টমেন্টই এই স্মার্ট ক্রিকেটের গোল্ডেন রুল। বেঙ্কটেশ, রিঙ্কুদের ইনিংসেই তা প্রতিফলিত।

Advertisement

প্যাট কামিন্স ব্রিগেডের বিরুদ্ধে ৮০ রানের মস্তবড় জয় নাইট সংসারের অন্দরমহলে আনছে স্বস্তি। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক শাহরুখ খান মেসেজ পাঠিয়েছেন, ‘চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলেছো তোমরা। সবার জন্য রইল শুভেচ্ছা। একসঙ্গে পার্টি করতে পারলে ভালো লাগত। শীঘ্রই তোমাদের সঙ্গে যোগ দেব।’ ক্রিকেটারদের প্রত্যেকের নাম ধরে ধরে প্রশংসার এই ভিডিও এখন ভাইরাল। বেঙ্কি মাইসোর যখন শাহরুখের মেসেজ পড়ছেন, ড্রেসিং-রুমে তখন তুমুল হাততালি। নাইট শিবিরের এমন উৎসবমুখর আবহের নেপথ্যে অবশ্যই আগ্রাসনের মাপা ব্যবহার।
একবগ্গাভাবে বল ঠ্যাঙানোর রিংটোন পাল্টে কন্ডিশনকে গুরুত্ব দিয়ে বেঙ্কটেশরা শুরুতে সময় নিয়েছেন। বাইশ গজের গতির সঙ্গে ধাতস্থ হয়েছেন। ক্রিজে এসেই গদা হাতে ‘হা রে রে রে’ করে ছক্কার নেশায় মাতেননি। আমন্ত্রণ জানাননি পতনকে। তাই শেষ পাঁচ ওভারে উঠেছে ৭৮, যা কার্যত তফাত গড়ে দিয়েছে দু’দলের মধ্যে। উল্টোদিকে. হারাকিরি করেছেন ট্রাভিস হেড, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষানরা। আগ্রাসন মানেই যে অন্ধের মতো ব্যাট চালানো নয়, এই জ্ঞানের অভাবেই হারের হ্যাটট্রিকের লজ্জায় ডুবতে হয়েছে কমলা জার্সিধারীদের।
ম্যাচের পরে ইডেনের প্রেস কনফারেন্স হলে বসে বেঙ্কটেশ বললেন, ‘আগ্রাসনের আসল মানে পজিটিভ ইন্টেন্ট। ইচিবাচক তো থাকতেই হবে। কন্ডিশন বুঝে সর্বাধিক ফায়দা আদায় করাই গুরুত্বপূর্ণ। দলগতভাবে আমরা সেভাবেই খেলতে চাই। ৫০ রানে ছয় উইকেট পড়ার পরও প্রতিটা বলে ছক্কা মারার চেষ্টা যতই পজিটিভ মানসিকতা হোক, তা সঠিক নয়। কোনও দিন ২৫০ তুললাম তো পরের দিন ৭০ অলআউট— এমন চাইছি না। পিচ বুঝে গড়পড়তা স্কোরের চেয়ে অন্তত ২০ রান বেশি তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’ নির্যাস, আক্রমণাত্মক থেকেও কোনওভাবেই সুইসাইড স্কোয়াডে নাম লেখানো নয়!
নাইটদের জয়ের তাৎপর্য এখানেই। রাহানেরা বুঝেছেন যে, আলট্রা-অ্যাগ্রেসিভ হওয়া যতই চিত্তাকর্ষক হোক, তাতে লুকিয়ে থাকে বিপর্যয়ের হাতছানি। আসলে ওয়াংখেড়েতে আগের ম্যাচে ১৬.২ ওভারে ১১৬ রানে ভেঙে পড়াই ঘটিয়েছে বোধোদয়। বেঙ্কটেশ-রিঙ্কুরা ভুল থেকে নিয়েছেন শিক্ষা। মঙ্গলবার ইডেনে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধেও নিশ্চিতভাবে এই টেমপ্লেট মেনে চলবেন নাইটরা। তবে ওপেনিং একেবারেই জমাট বাঁধছে না। কুইন্টন ডি’কক ও সুনীল নারিনের জুটি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে রাহানেকে নামতে হয়েছে প্রথম ওভারেই। আর ওই দুটো ম্যাচেই হেরেছে কলকাতা। শুক্রবারও নাইট অধিনায়ক ক্রিজে গিয়েছেন দ্বিতীয় ওভারে। ভাগ্যিস, বেঙ্কটেশ, রিঙ্কুরা আগ্রাসনের নামে সর্বনাশা নেশায় মাতেননি!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ