নয়াদিল্লি: আইপিএল মানেই চার-ছক্কার ফুলঝুরি। ক্রিকেটপ্রেমীরা বড় শট দেখতেই ভিড় জমান গ্যালারিতে। কিন্তু তার মধ্যেও বোলারদের ভূমিকা হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেন তাঁরাই। স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ গড়ায় জোর দেন ফ্র্যাঞ্চাইজিরা। তবে চাইলেই সবসময় তা করা যায় না। আসন্ন আইপিএলের বিভিন্ন দলের বোলিং শক্তির তুলনা করলে পরিষ্কার, কাগজ-কলমে কলকাতা নাইট রাইডার্স একনম্বরেই।
মিচেল স্টার্ক না থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার এক্সপ্রেস গতির অ্যানরিখ নর্তজে এসেছেন নাইট শিবিরে। বাঁ-হাতি অজি পেসার স্পেন্সার জনসনও আছেন। ডেথ ওভারে আন্দ্রে রাসেলের গতির হেরফেরও বড় ভরসা। ভারতীয় পেসারদের মধ্যে হর্ষিত রানা সদ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাড়া ফেলেছেন। গতি ও বাউন্সে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ধরেন তিনি। ‘আনক্যাপড’ পেসার বৈভব অরোরাও গতবছর নজর কেড়েছিলেন। স্পিন বিভাগে দুই ‘মিস্ট্রি’ স্পিনার বিপক্ষকে ধাঁধায় ফেলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তী— দু’জনকেই সামলানো কঠিন। চিপকের মতো স্পিন সহায়ক পিচে খেলতেই পারেন অফ স্পিনার মঈন আলি। আবার দুই মিডিয়াম পেসার, বেঙ্কটেশ আয়ার ও রমনদীপ সিং দরকারে দুই-তিন ওভার কাজ চালানোর ক্ষমতা ধরেন। সার্বিকভাবে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত দেখাচ্ছে নাইটদের বোলিংকে।
মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের আক্রমণ আবার অনেকাংশেই নির্ভর করছে যশপ্রীত বুমরাহর উপর। কিন্তু তিনি শুরুতে নেই। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া, চোট সারিয়ে ওঠা দীপক চাহার, ট্রেন্ট বোল্টকে নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ তারপরও ধারালো। স্পিন বিভাগে মিচেল স্যান্টনার ভারতীয় কন্ডিশনে মারাত্মক হয়ে উঠতে পারেন।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও মহম্মদ সামি যে কোনও ব্যাটসম্যানকে টেনশনে রাখার ক্ষমতা ধরেন। তৃতীয় পেসার হার্শল প্যাটেল। স্পিন বিভাগে অ্যাডাম জাম্পা ছাড়াও রয়েছেন রাহুল চাহার ও অভিষেক শর্মা। গুজরাত টাইটান্সে কাগিসো রাবাদা, মহম্মদ সিরাজ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা আছেন পেসবোলিংয়ে। স্পিনে রশিদ খানের সঙ্গী ওয়াশিংটন সুন্দর, সাই কিশোর। রাজস্থান রয়্যালসে দুই শ্রীলঙ্কান স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও মাহিশ থিকশানার মধ্যে কোনও একজন খেলবেন। কাজে আসবে রিয়ান পরাগের অফস্পিনও।