জানালেন রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অপথ্যালমোলজির চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রফেসর ডাঃ সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়
Advertisement
অনেকেই জন্মগতভাবে দৃষ্টিহীন। কেউ বা আবার কোনওরকম মারাত্মক আঘাত বা দুর্ঘটনার ফলে হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি। আত্মীয়-পরিজন, পাড়া-পড়শি অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের। কিন্তু কীভাবে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন সম্ভব? বয়স কি এক্ষেত্রে কোনও বাধা হতে পারে? দেখা যাক— কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে মৃতের পরিজনদের সম্মতির ভিত্তিতে মৃতের চোখ সংগ্রহ করা হয়। এই কাজটি অবশ্য করতে হবে ওই ব্যক্তি মারা যাওয়ার ৬ ঘণ্টার মধ্যেই। এরপর অত্যন্ত সাবধানতা এবং যত্ন সহকারে আইব্যাঙ্কে নিয়ে আসতে হবে চোখ। সংগ্রহ করা হবে আই বল। আইবল সর্বোচ্চ ৩ দিন প্রিজার্ভ করা যেতে পারে। কিছু জায়গায় অবশ্য ১৪ দিনও প্রিজার্ভ করা যায়। এর মধ্যেই অন্য কোনও দৃষ্টিহীন ব্যক্তির চোখে তা প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে।
এবার জেনে নেওয়া যাক কাদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে? কিছু ক্ষেত্রে কয়েকজন রোগীর কর্নিয়া ওপেন হয়ে যায়। ফলে আলো পাশ করতে সমস্যা হয়। তার ফলে সেই ব্যক্তির দেখার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। এটিকে বলা হয় কর্নিয়াল ব্লাইন্ডনেস। এছাড়া জন্মগত সমস্যা, ভিটামিন এ-এর অভাব, চোখে কোনওভাবে আঘাত, কর্নিয়ায় কোনওরকম সংক্রমণের ফলে নেমে আসতে পারে অন্ধত্ব। ফাঙ্গাল কর্নিয়াল আলসারের ফলেও অন্ধত্ব দেখা দেয়। মূলত গ্রামীণ এলাকায় কিছু কৃষকদের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়। পাশাপাশি বয়সকালে অনেকের চোখের কর্নিয়া হঠাৎই ওপেন হয়ে যায়। সেই ক্ষেত্রেও অন্ধত্ব নেমে আসতে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ শতাংশ মানুষের কর্নিয়াল ব্লাইন্ডনেসের সমস্যা রয়েছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অপারেশন করার ক্ষেত্রে সুগার কিন্তু একটি সমস্যা হতে পারে। ফলে অপারেশনের আগে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো মধুমেহ বা সুগার রোগটি কন্ট্রোল করার পর অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। তা না হলে কিন্তু সুগারের কারণে ইনফেকশনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অপারেশনের ক্ষেত্রে কোনও বয়সসীমা নেই। অর্থাৎ ডোনার এবং গ্রহীতা দু’জনের ক্ষেত্রেই বয়স কোনও বিষয় নয়। সম্প্রতি ৯ বছরের পরলোকগত এক শিশুর কর্নিয়াও সংগ্রহ করা হয়েছে।
এবার কাদের চোখ আমরা নিতে পারব না সেটাও জেনে নেওয়া দরকার। ডোনার অর্থাৎ যিনি মারা গিয়েছেন তাঁর ভাইরাল হেপাটাইটিস, সেপটিসেমিয়া থাকলে সেইক্ষেত্রে কর্নিয়া সংগ্রহ করা যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায়। অনেকেই মনে করতে পারেন সেই মৃতদেহ থেকেও কর্নিয়া সংগ্রহ করে আইব্যাঙ্কে প্রিজার্ভ করা সম্ভব। কিন্তু বেওয়ারিশ লাশের মৃত্যুর সঠিক কারণ না জানা থাকলে সেই কর্নিয়া সংগ্রহ করা যায় না। এছাড়া সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ডিজিজ, এনকেফালাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির মৃতদেহ থেকেও কর্নিয়া সংগ্রহ করা যায় না।
কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের আগে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যাঁর চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হবে তাঁকে আই ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হবে। চক্ষু চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো করতে হবে কিছু টেস্ট। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের আগে রেটিনা বা চোখের পর্দা ঠিক রয়েছে কি না সেটিও দেখে নেবেন চিকিৎসকরা। চোখের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সুগার এবং ইউএসজি টেস্টও করতে হবে। সব প্যারামিটার ঠিক থাকলে ওই রোগীর নাম আইব্যাঙ্কে এনলিস্টেড করা হবে। এরপর সিরিয়াল নম্বরের ভিত্তিতে রোগীদের অর্থাৎ যাঁদের চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হবে তাঁদের ডাকা হবে। তবে এক্ষেত্রে শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
কিন্তু এই অপারেশন কি খুব খরচ সাপেক্ষ? মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তদের ক্ষেত্রে এই অস্ত্রোপচারের জন্য কত খরচ হতে পারে? প্রফেসর সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় জানান, সরকারি হাসপাতালে এই অপারেশন হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। থাকা-খাওয়ার জন্যও রোগীদের লাগবে না কোনও খরচ। বেসরকারি ক্ষেত্রে অবশ্য বেড ভাড়া বা সামান্য কিছু খরচ লাগতে পারে। অপারেশনের পর ৬ মাস থেকে ১ বছর ওষুধ চলবে। এছাড়াও যাঁর চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তাঁকে পরতে হবে চশমা। কারণ অপারেশনে প্রায় ১৬টি স্টিচ পড়ে। যার ফলে চোখে সিলিন্ড্রিক্যাল পাওয়ার দেখা দিতে পারে। তার জন্যই ব্যবহার করতে হবে চশমা। অপারেশনের সাকসেস রেট প্রায় ৫০ শতাংশ। এর আগে কলকাতায় মাত্র দুটি আই ব্যাঙ্কই ছিল। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আরআইও এবং এনআরএস-এ অতুল বল্লভ আই ব্যাঙ্ক। এখন অবশ্য ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিলের গাইডলাইন্স অনুযায়ী সমস্ত মেডিক্যাল কলেজেই আই ব্যাঙ্ক রয়েছে।
এবার জেনে নেওয়া যাক কাদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে? কিছু ক্ষেত্রে কয়েকজন রোগীর কর্নিয়া ওপেন হয়ে যায়। ফলে আলো পাশ করতে সমস্যা হয়। তার ফলে সেই ব্যক্তির দেখার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। এটিকে বলা হয় কর্নিয়াল ব্লাইন্ডনেস। এছাড়া জন্মগত সমস্যা, ভিটামিন এ-এর অভাব, চোখে কোনওভাবে আঘাত, কর্নিয়ায় কোনওরকম সংক্রমণের ফলে নেমে আসতে পারে অন্ধত্ব। ফাঙ্গাল কর্নিয়াল আলসারের ফলেও অন্ধত্ব দেখা দেয়। মূলত গ্রামীণ এলাকায় কিছু কৃষকদের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয়। পাশাপাশি বয়সকালে অনেকের চোখের কর্নিয়া হঠাৎই ওপেন হয়ে যায়। সেই ক্ষেত্রেও অন্ধত্ব নেমে আসতে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, দৃষ্টিহীন ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ শতাংশ মানুষের কর্নিয়াল ব্লাইন্ডনেসের সমস্যা রয়েছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অপারেশন করার ক্ষেত্রে সুগার কিন্তু একটি সমস্যা হতে পারে। ফলে অপারেশনের আগে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো মধুমেহ বা সুগার রোগটি কন্ট্রোল করার পর অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। তা না হলে কিন্তু সুগারের কারণে ইনফেকশনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অপারেশনের ক্ষেত্রে কোনও বয়সসীমা নেই। অর্থাৎ ডোনার এবং গ্রহীতা দু’জনের ক্ষেত্রেই বয়স কোনও বিষয় নয়। সম্প্রতি ৯ বছরের পরলোকগত এক শিশুর কর্নিয়াও সংগ্রহ করা হয়েছে।
এবার কাদের চোখ আমরা নিতে পারব না সেটাও জেনে নেওয়া দরকার। ডোনার অর্থাৎ যিনি মারা গিয়েছেন তাঁর ভাইরাল হেপাটাইটিস, সেপটিসেমিয়া থাকলে সেইক্ষেত্রে কর্নিয়া সংগ্রহ করা যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায়। অনেকেই মনে করতে পারেন সেই মৃতদেহ থেকেও কর্নিয়া সংগ্রহ করে আইব্যাঙ্কে প্রিজার্ভ করা সম্ভব। কিন্তু বেওয়ারিশ লাশের মৃত্যুর সঠিক কারণ না জানা থাকলে সেই কর্নিয়া সংগ্রহ করা যায় না। এছাড়া সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ডিজিজ, এনকেফালাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির মৃতদেহ থেকেও কর্নিয়া সংগ্রহ করা যায় না।
কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের আগে কিছু পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যাঁর চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হবে তাঁকে আই ক্লিনিকে নিয়ে যেতে হবে। চক্ষু চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো করতে হবে কিছু টেস্ট। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের আগে রেটিনা বা চোখের পর্দা ঠিক রয়েছে কি না সেটিও দেখে নেবেন চিকিৎসকরা। চোখের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সুগার এবং ইউএসজি টেস্টও করতে হবে। সব প্যারামিটার ঠিক থাকলে ওই রোগীর নাম আইব্যাঙ্কে এনলিস্টেড করা হবে। এরপর সিরিয়াল নম্বরের ভিত্তিতে রোগীদের অর্থাৎ যাঁদের চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হবে তাঁদের ডাকা হবে। তবে এক্ষেত্রে শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
কিন্তু এই অপারেশন কি খুব খরচ সাপেক্ষ? মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্তদের ক্ষেত্রে এই অস্ত্রোপচারের জন্য কত খরচ হতে পারে? প্রফেসর সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় জানান, সরকারি হাসপাতালে এই অপারেশন হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। থাকা-খাওয়ার জন্যও রোগীদের লাগবে না কোনও খরচ। বেসরকারি ক্ষেত্রে অবশ্য বেড ভাড়া বা সামান্য কিছু খরচ লাগতে পারে। অপারেশনের পর ৬ মাস থেকে ১ বছর ওষুধ চলবে। এছাড়াও যাঁর চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে তাঁকে পরতে হবে চশমা। কারণ অপারেশনে প্রায় ১৬টি স্টিচ পড়ে। যার ফলে চোখে সিলিন্ড্রিক্যাল পাওয়ার দেখা দিতে পারে। তার জন্যই ব্যবহার করতে হবে চশমা। অপারেশনের সাকসেস রেট প্রায় ৫০ শতাংশ। এর আগে কলকাতায় মাত্র দুটি আই ব্যাঙ্কই ছিল। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে আরআইও এবং এনআরএস-এ অতুল বল্লভ আই ব্যাঙ্ক। এখন অবশ্য ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিলের গাইডলাইন্স অনুযায়ী সমস্ত মেডিক্যাল কলেজেই আই ব্যাঙ্ক রয়েছে।
লিখেছেন শৌণক সুর



