নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের বাজেটে কর্মসংস্থান নিয়ে মোদি সরকারের একপ্রকার দিশাহীন পরিস্থিতিই সামনে এল। শনিবার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের সাধারণ বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেই বাজেট ঘোষণায় কেন্দ্রের মোদি সরকারের কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় ভরসা হিসেবে উঠে এসেছে এমএসএমই সেক্টরই। কিছু ক্ষেত্রে ভরসা রাখা হয়েছে পর্যটন ক্ষেত্রের উপর। এদিনের বাজেট ঘোষণায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের ৫০টি নতুন পর্যটনস্থলের মানোন্নয়ন করা হবে। তা কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এমএসএমই ক্ষেত্রে যাঁরা নতুন অন্তর্ভুক্ত হবেন, তাঁদের জন্য একাধিক পরিষেবার বন্দোবস্ত করবে কেন্দ্র। এর ফলে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ, কাজের সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে বড় কোনও ঘোষণাই এদিন করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার।
Advertisement
এমনকী এক্ষেত্রে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) ‘পে রোল ডেটা’র উল্লেখমাত্রও করা হয়নি। ইপিএফও ‘পে রোল ডেটা’র পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয় যে, সারা দেশের বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানে কত নতুন কর্মী নিযুক্ত হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই এবারের বাজেটে এই প্রসঙ্গ কার্যত এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। শনিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ঘোষণা করেছেন, দেশের প্রায় এক কোটি নথিভুক্ত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি প্রকল্প কমবেশি সাড়ে সাত কোটি মানুষকে কাজের সুযোগ দিয়েছে। এই সংক্রান্ত ‘উদ্যম পোর্টালে’ নথিভুক্তদের এবার ক্রেডিট কার্ড দেবে মোদি সরকার। এর ঊর্ধ্বসীমা থাকবে পাঁচ লক্ষ টাকা। প্রথম বছরে প্রায় ১০ লক্ষ ক্রেডিট কার্ড দেওয়া হতে পারে। এরই পাশাপাশি এমএসএমই সেক্টরের জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টির পরিমাণও বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। লক্ষ্য একটিই। কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করা। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের বাজেটে অনলাইন ডেলিভারি সংস্থার কর্মীদের (‘গিগ’ কর্মী) জন্য উল্লেখযোগ্য ঘোষণা করেছেন নির্মলা সীতারামন। শনিবারের বাজেট ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, দেশের ‘গিগ’ কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা প্রদান করবে কেন্দ্রীয় সরকার। ই-শ্রম পোর্টালে নথিভুক্তির ভিত্তিতে তাঁদের দেওয়া হবে পরিচয়পত্র। সমাজিক সুরক্ষার পাশাপাশিই প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার সুবিধাও পাবেন দেশের অনলাইন ডেলিভারি কর্মীরা। প্রায় এক কোটি ‘গিগ’ কর্মীর কথা মাথায় রেখেই এহেন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এমনই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।



