আজারবাইজান: আকাশে এলোমেলোভাবে চক্কর কাটছে একটি বিমান। দেখে মনে হবে, যেন কোনও এয়ার শো! গোত্তা খেয়ে কখনও নেমে আসছে। মাটি ছোঁয়ার কিছু আগেই আবার উঠে যাচ্ছে আকাশে। কয়েক মিনিটের রুদ্ধশ্বাস ‘উত্থান-পতন’। তারপরই সোজা মাটিতে আছড়ে পড়ল বিমানটি। সঙ্গে সঙ্গে দাউ দাউ করে আগুন আর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল গোটা এলাকা। বুধবার কাজাখস্তানের আকতু বিমানবন্দরের মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে এভাবেই ভেঙে পড়ে আজারবাইজান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। সেটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ৬৭ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। প্রাণে রক্ষা পেয়েছে তিন শিশু সহ ২২ জন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিন্তু কী করণে এই বিপত্তি, তা স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, অবতরণের কিছু আগেই পাখির ঝাঁকের সঙ্গে বিমানের সংঘর্ষ হয়। তার জেরেই সম্ভবত স্টিয়ারিং-এ সমস্যা দেখা দেয় বা একটি ইঞ্জিন কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তার জেরেই বিপত্তি। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিইয়েভ।
Advertisement
এমব্রেয়ার ইআরজে ১৯০ বিমানটি আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। গন্তব্য ছিল রাশিয়ার গ্রজনি। ঘন কুয়াশার জেরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় বিমানটিকে। রাশিয়ার বদলে এবার গন্তব্য ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরের কাজখস্তানের আকতু শহর। কিন্তু, রানওয়ে ছোঁয়ার কয়েক মিনিট আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন পাইলট। জরুরি অবতরণের আর্জিও জানিয়েছিলেন তিনি। অনেক চেষ্টা করেও বিমানটিকে বশে আনতে পারেননি। বেশ কয়েক মিনিট আকাশে এলোমেলোভাবে চক্কর কাটার পর কাসপিয়ান সাগরের পূর্ব উপকূলের একটি খোলা মাঠে সেটি মুখ থুবড়ে পড়ে দু’টুকরো হয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রশাসনিক কর্তা ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। জখমদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কাজাখ পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ওই বিমানে আইজারবাইজানের ৩৭ জন, কাজাখস্তানের ৬ জন, ৩ জন কিরঘিরস্তানের ও ১৬ জন রাশিয়ার যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার আগে ও পরের বেশ কয়েকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ভেঙে পড়ার পরের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিমানের একটি অংশ ভেঙে আলাদা হয়ে গিয়েছে। সেখান থেকে একের একে যাত্রীদের বের করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার অভিঘাতে তাঁদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। যন্ত্রণায় ছটফট করছেন।



