Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

স্কুলের পাশেই কীর্তন, ক্লাসে এল না কোনও পড়ুয়া, বিতর্ক

স্কুলের পাশেই কীর্তন, ক্লাসে এল না কোনও পড়ুয়া, বিতর্ক
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: স্কুলের গা ঘেঁষে বসেছে বিশাল নাম সংকীর্তনের আসর। আর তাতেই মাথায় উঠল স্কুলের পড়াশোনা! বুধবার থেকে এমনই এক ঘটনার সাক্ষী বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তাহেরপুর প্রাইমারি স্কুল। এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশ্বেশ্বর বর্মনকে ফোন করা হলেও তিনি  ধরেননি। মেসেজেরও উত্তর দেননি তিনি। রায়গঞ্জ পূর্ব সার্কেলের সাব ইন্সপেক্টর সুভাষ সাধুর বক্তব্য, বিষয়টি আমার অজানা। খোঁজ নিয়ে দেখছি। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার থেকে তাহেরপুর প্রাইমারি স্কুলের গা ঘেঁষে বসেছে নাম সংকীর্তনের আসর। ওই কীর্তনকে ঘিরে স্কুল চত্বরেই বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে বসেছে স্টল। বাচ্চাদের খেলনা থেকে মেয়েদের সাজগোজের সরঞ্জাম। সঙ্গে অন্যান্য দোকান। কীর্তন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবারও স্কুল টাইমে চত্বরে প্যান্ডেল টাঙিয়ে খিচুড়ি, বাঁধাকপির তরকারি রান্নাবান্না হয়। আর এই বিপুল আয়োজনে মেতে উঠেছে স্কুল পড়ুয়ারাও। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার কোনও পড়ুয়াই স্কুলে আসেনি। স্কুলের আশপাশেই সাধারণ পোশাক পরে খেলাধুলো করেছে তারা। 
এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়স্তরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন, অঘোষিতভাবে একটা স্কুলের পড়াশোনা লাটে উঠে গেল। গ্রামাঞ্চলে জায়গার অভাব হয় না। কেন স্কুল ঘেঁষেই এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে? ছুটির দিনে হলে এব্যাপারে কেউই আপত্তি তোলেন না। যদিও একাংশ কীর্তনের পক্ষেই বলেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় কীর্তন আয়োজন হয়। এবারও হয়েছে।
স্কুল সূত্রে খবর, তাহেরপুর প্রাইমারি স্কুলে ১৯০ জন ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে। বাজিতপুর, কাচিমোয়া, কলেজপাড়া, গোয়ালপাড়া সহ বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ অংশের বাচ্চারা এই স্কুলে আসে পড়াশোনা করতে। তাদের কাউকেই এদিন স্কুল টাইমে দেখা যায়নি। যদিও স্কুল চত্বরে ছিলেন কীর্তন আয়োজকরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, কয়েকজন শিক্ষক স্কুলেই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু পড়ুয়ারা কেউ আসেনি। এটাই নাকি এলাকার দস্তুর। গতবছর নভেম্বর মাসেও বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আতিয়াকুন্ডি প্রাইমারি স্কুল কর্তৃপক্ষ এমনই এক গ্রামীণ অনুষ্ঠানের জন্য ভরদুপুরে স্কুল বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছিল। সেটা নিয়েও এলাকায় সেসময় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তারপরও একই ঘটনা ঘটল ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভবানন্দ বর্মণ অবশ্য বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই অনুষ্ঠান চলে আসছে। মানুষের আবেগ জড়িত এর সঙ্গে। তাই গ্রামবাসীর উদ্যোগেই দিন কয়েকের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ