ভগবানের দিব্য নামের প্রতি আসক্তি
ভগবানের দিব্য নামের প্রতি আসক্তি
এই কৃষ্ণকর্ণামৃত গ্রন্থেই শ্রীমতী রাধারাণীর কৃষ্ণনাম কীর্তন সম্বন্ধে একটি বর্ণনা আছে। রাধারাণীর একজন সখী বলছেন, “হে গোবিন্দ! মহারাজ বৃষভানুর কন্যা অশ্রুধারায় সিক্ত হয়ে নিরন্তর ‘কৃষ্ণ!’ ‘কৃষ্ণ!’ বলে তোমার নাম ধরে ডাকছে।”
ভগবানের দিব্য গুণাবলী বর্ণনায় আগ্রহ
ভগবানের মহিমা কীর্তন করার প্রতি আসক্তিও কৃষ্ণকর্ণামৃততে বর্ণিত হয়েছে—‘সমস্ত মাধুর্য থেকেও যিনি অধিক মধুর এবং সমস্ত দুরন্ত বালকদের থেকেও যিনি অধিক চঞ্চল, সেই কৃষ্ণকে নিয়ে আমি এখন কি করি? তাঁর অপূর্ব মাধুর্যমণ্ডিত কার্যকলাপ আমার হৃদয়কে এমনভাবে আকর্ষণ করছে, কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না আমার কি করা উচিত!”
শ্রীকৃষ্ণের লীলাস্থলীতে বাস করার আকাঙ্ক্ষা
পদ্যাবলী নামক গ্রন্থে শ্রীল রূপ গোস্বামী বৃন্দাবনের বর্ণনা করে বলেছেন, “এখানে নন্দ মহারাজের পুত্র তাঁর পিতার সঙ্গে বাস করতেন। নন্দ মহারাজ ছিলেন সমস্ত গো-পালকদের রাজা। এখানে কৃষ্ণ একটি শকট ভেঙ্গে ফেলেন, যাতে শকটাসুর নামে একটি অসুর লুকিয়ে ছিল। এখানেই সেই দামোদর যিনি আমাদের জড় বন্ধন মোচন করতে পারেন, তিনি তাঁর মা যশোদার দ্বারা রজ্জুবদ্ধ হয়েছিলেন।” শ্রীকৃষ্ণের শুদ্ধ ভক্ত মথুরা অথবা বৃন্দাবনে বাস করেন এবং শ্রীকৃষ্ণের সমস্ত লীলাস্থলীগুলি দর্শন করেন। এই পবিত্র ধামে শ্রীকৃষ্ণ তাঁর গোপসখা ও মা যশোদার সঙ্গে তাঁর বাল্যলীলা প্রদর্শন করেছিলেন। আজও কৃষ্ণভক্তরা সেই সমস্ত স্থানগুলি পরিক্রমা করেন এবং যাঁরা মথুরা ও বৃন্দাবনে আসেন, তাঁরা নিরন্তর এক অপ্রাকৃত আনন্দ অনুভব করেন। প্রকৃতপক্ষে, বৃন্দাবনে গেলেই তৎক্ষণাৎ শ্রীকৃষ্ণের বিরহ অনুভূত হয়, কেন না প্রকটকালে তিনি সেখানে যে সমস্ত মধুর লীলাবিলাস করেছিলেন, সেই কথা তখন মনে পড়ে যায়। শ্রীকৃষ্ণের লীলা স্মরণ করার প্রতি আকর্ষণও শ্রীকৃষ্ণের প্রতি এক রকমের আসক্তি। নির্বিশেষবাদী জ্ঞানী ও যোগীরা কৃত্রিম ভক্তি প্রদর্শন করে অবশেষে পরমেশ্বর ভগবানে লীন হয়ে যেতে চান। কখনও কখনও তাঁরা শুদ্ধ ভক্তের ভাব অনুকরণ করে শ্রীকৃষ্ণের লীলাস্থলীতে যান। কিন্তু তাঁরা কেবল সাযুজ্য মুক্তি কামনা করেন, তাই তাঁদের এই কার্যকলাপ ভগবানের প্রতি আসক্তিবশত নয়। শ্রীল রূপ গোস্বামী বলেছেন, শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আসক্তি কর্মী ও জ্ঞানীদের হৃদয়ে কখনই প্রকাশিত হতে পারে না, কেন না শুদ্ধ কৃষ্ণভাবনা-প্রসূত এই রতি অত্যন্ত দুর্লভ এবং অনেক মুক্ত পুরুষদের পক্ষেও তা লাভ করা সম্ভব নয়।
শ্রীল রূপ গোস্বামী বিরচিত ‘ভক্তিরসামৃতসিন্ধু’ থেকে