Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

টাকা লুটের লক্ষ্যেই অপহরণ করে খুন কারখানার কর্মীকে, গ্রেপ্তার ১

হাওড়ার বিস্কুট কারখানার অ্যাকাউন্টেট নৈহাটির বাসিন্দা অনিমেষ মিত্রকে অপহরণের দু’বার গাড়ি বদলে বীরভূম নিয়ে যাওয়া হয়।

টাকা লুটের লক্ষ্যেই অপহরণ করে  খুন কারখানার কর্মীকে, গ্রেপ্তার ১
  • ২২ জুন, ২০২৫ ১৫:০৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাওড়ার বিস্কুট কারখানার অ্যাকাউন্টেট নৈহাটির বাসিন্দা অনিমেষ মিত্রকে অপহরণের দু’বার গাড়ি বদলে বীরভূম নিয়ে যাওয়া হয়। প্রমাণ লোপাট করতে টাকা লুটের পর তাঁকে খুন করে বোলপুরে শিবপুর মৌজায় সুরথেশ্বর মন্দির সংলগ্ন নির্জন মাঠের ধারে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে হাওড়া সিটি পুলিসের। এদিকে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাঁতরাগাছি এলাকার বিস্কুটের স্টল চালানো অভিষেক সোনকার নামে এক যুবককে শনিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে দুষ্কৃতীরা অপহরণ কাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের বার্ন স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে আসা এবং অনিমেষবাবুকে চিনিয়ে দেওয়ার কাজটি করেছিল অভিষেক। 

Advertisement

অনিমেষ বাবুকে অপহরণ করে খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দারা অনিমেষবাবুর ফোনের কল ডিটেইলস বের করে জানার চেষ্টা করেন, কার কার সঙ্গে তাঁর প্রতিদিন কথা হতো। তাদের নামের তালিকা তৈরি হয়। জানা যায়, হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় বিস্কুট সাপ্লাই করতেন অনিমেষবাবু। সাঁতরাগাছি এলাকায় এক বিস্কুট স্টলের মালিকের সঙ্গে ঘটনার দিন তাঁর কথা হয়েছিল। যাঁদের বিস্কুট সাপ্লাই করতেন, তাঁদের সকলের মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন নিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের মধ্যে কারও অবস্থান বার্ন স্ট্যান্ডের সামনে ছিল না। একমাত্র অভিষেক সোনকারের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন মেলে সেখানে। এখান থেকে তদন্ত নতুন গতি পায়। কিন্তু ওই সময় সে ওখানে কী করছিল, তা নিয়ে সন্দেহ জাগে তদন্তকারীদের। মোবাইলের কল ডিটেইলস ঘেঁটে তদন্তকারীরা দেখেন, অভিষেকের ফোনে বেশ কিছু সন্দেহভাজনের কল একাধিকবার এসেছে ওইদিন। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে শুক্রবার ডেকে পাঠানো হয়। প্রথমে সে বলার চেষ্টা করে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড এলাকায় সে ব্যবসার কাজে গিয়েছিল। অন্য দিন না এলেও, হঠাৎ ঘটনার অপহরণের দিন কেন এল, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাকে। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে অভিষেক জানায়, অনিমেষবাবুকে যে অপহরণ করা হবে, বিষয়টি সে জানত। তদন্তকারীদের সে জানায় অপহরণকারীরা তার পাড়ায় থাকে। অনিমেষবাবু যে প্রতিদিন বিস্কুট সরবরাহ করার পর পেমেন্টের টাকা নিয়ে বার্ন স্ট্যান্ডার্ড এলাকা দিয়ে যেতেন, সেটা অভিষেক জানত। এরপর স্থানীয় ব্যাঙ্কে টাকা জমা করার বিষয়টিও তার জানা ছিল। তাকে অপহরণকারীরা বলেছিল, ভালো নগদ নিয়ে যাতায়াত করেন, এমন ব্যক্তির খোঁজ দিতে। যাতে তাঁকে অপহরণ করে মোটা টাকা পাওয়া যায়।  অপহরণ করে লুটের পর যে টাকা আসবে, তার একটা ভাগ সে পাবে। এই টোপ গিলে অভিষেক ওই বিস্কুট কারখানার অ্যাকাউন্টেটের বিষয়ে তথ্য জোগায়। কিন্তু অপহরণকারীরা অনিমেষবাবুকে চিনত না। বৃহস্পতিবার দুই অপহরণকারী সাঁতরাগাছিতে অভিষেকের স্টলে আসে। বাইকে চাপিয়ে তাদের বার্ন স্ট্যান্ডার্ড এলাকায় নিয়ে যায় অভিষেক।  সেখানে অনিমেষবাবু আসতেই তাঁকে চিনিয়ে দেয়। এরপর বিস্কুট কারখানার অ্যাকাউন্টেটকে জোর করে বাইকে তোলে অপহরণকারীরা। মাঝ রাস্তায় অপেক্ষা করছিল অপর একটি গাড়ি। মুখ বেঁধে অনিমেষবাবুকে গাড়িতে তোলা হয়। তিনি তাদের টাকার ব্যাগ দিতে না চাইলে মারধর করে টাকার ব্যাগ কেড়ে নেয় অপহরণকারীরা। অনিমেষবাবু অপহরণকারীদের চিনে ফেলায় প্রমাণ লোপাট করতে গাড়িতে খুন করে দেহ বোলপুরে ফেলে দিয়ে পালায়। যে গাড়িতে অনিমেষ বাবুকে তোলা হয়, সিসি ক্যামেরার সূত্রে তার নম্বর জেনেছে পুলিস। একইসঙ্গে অভিষেককে জেরা করে পলাতক  অভিযুক্তদের গোপন ডেরা কোথায় আছে জানার চেষ্টা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ