Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

খাস ঢাকায় ইসকন মন্দির জ্বালিয়ে দিল মৌলবাদীরা

‘জাতীয় ঐক্য’ ফেরাতে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। আলোচনা করেছেন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গেও। বারবার দাবি করেছেন, হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনাগুলি পুরোপুরি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ‘অপপ্রচার’।

খাস ঢাকায় ইসকন মন্দির জ্বালিয়ে দিল মৌলবাদীরা
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
ঢাকা ও নয়াদিল্লি: ‘জাতীয় ঐক্য’ ফেরাতে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। আলোচনা করেছেন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গেও। বারবার দাবি করেছেন, হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনাগুলি পুরোপুরি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ‘অপপ্রচার’। সেই দাবি যে সর্বৈব মিথ্যা, হাতেনাতে প্রমাণ মিলল শনিবার। চট্টগ্রাম, সিলেটের পর এবার ঢাকায় তাণ্ডব মৌলবাদীদের। জ্বালিয়ে দেওয়া হল ইসকনের নামহট্ট সেন্টারের দু’-দু’টি মন্দির। আগুনে পুড়ে গিয়েছে লক্ষ্মীনারায়ণ ও রাধাকৃষ্ণের প্রতিমা। এই হামলার কথা জানিয়েছেন ইসকন কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস স্বয়ং। ঘটনার বিবরণ দিয়ে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘এদিন ভোর তিনটে নাগাদ ঢাকার তুরাগ থানা এলাকায় অবস্থিত ইসকনের ওই কেন্দ্রে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। সেখানকার রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও মহাভাগ্য লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের টিনের চাল ভেঙে ভিতরে পেট্রল বা অন্য কোনও জ্বালানি তেল ঢেলে দেয় তারা। তারপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় মন্দির দু’টিতে।’ শুক্রবার নেত্রকোনায় কালীমন্দিরে ভাঙচুর করে সেটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এর আগেও ‘বৈষম্যবিরোধী’ বাংলাদেশে ইসকনের একাধিক কেন্দ্র জোর করে বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিস-প্রশাসনকে সেই ব্যাপারে হস্তক্ষেপের আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি। 
Advertisement
এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকায় ইসকনের মন্দিরে হামলার তীব্র নিন্দা করি। উপাসনালয়ে হামলা ঘৃণার অযোগ্য অপরাধ। অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ 
শুধু মন্দির কিংবা হিন্দুদের সম্পত্তিতে হামলা নয়, ভারত বিরোধিতার জিগিরও উঠেছে পদ্মাপারে। শেখ হাসিনার আমলে ভারতকে ‘ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেদেশের তত্কালীন সরকার। এদিন ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকার তা বাতিল করার কথা জানাল। ঢাকার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যান্ডউইথ ট্রানজিটের পরিকল্পনা হয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশের আখাউড়া সীমান্ত হয়ে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ট্রানজিট স্থাপনের জন্য আর্জি জানিয়েছিল ভারতী এয়ারটেল। তাদের সঙ্গে হাত মেলায় বাংলাদেশের দুই সংস্থা সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার অ্যাট হোম। কিন্তু বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন বা বিআরটিসি এদিন হাসিনার আমলের সেই সিদ্ধান্ত বাতিলের কথা জানিয়েছে। কারণ হিসেবে তাদের দাবি, এই ব্যান্ডউইথ ট্রানজিট চালু হলে আঞ্চলিক হাব হিসেবে বাংলাদেশের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়বে। যদিও ওয়াকিবহাল মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের পিছনেও রয়েছে রাজনীতি। কারণ, গোপালগঞ্জের পাঁচবারের সাংসদ ও আওয়ামি লিগ নেতা ফারুক খানের ভাই মহম্মদ ফরিদ খান ওই সামিট কমিনউনিকেশনসের চেয়ারম্যান। ফরিদের সঙ্গে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। বর্তমান বাংলাদেশে যেভাবে আওয়ামি লিগকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে, ব্যান্ডউইথ ট্রানজিটে অনুমতি বাতিলের ক্ষেত্রেও একই ভাবনা কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।  এক্স হ্যান্ডলে রাধারমণ দাসের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে চার দিনের মধ্যে কলকাতা দখল করে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তাকে। সেই মিছিলেও ছিল ভারত-বিরোধী স্লোগান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করার দাবি উঠেছে ভারতে। আর তা নিয়ে এদিন পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নৌপরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রকের উপদেষ্টা শাখাওয়াত হোসেন। সাতক্ষীরায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, ‘ভারত কিছু বিনা পয়সায় দেয় না। ওরা ব্যবসা বন্ধ করলে ওদের অর্থনীতিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তার কোনও কারণ নেই।’ যদিও হিন্দু নির্যাতন নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঢাকার উপরে চাপ বাড়ছে। সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে যেভাবে হিন্দু ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপর হিংসার ঘটনা ঘটছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোরদার দাবি জানাচ্ছি।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ