Bartaman Logo
২৯ জুলাই, ২০২৬
Advertisement
বর্তমান / রাজ্য

খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে চার কর্মাধ্যক্ষের পদে নতুন মুখ

আগেই অনাস্থা এনে অপসারণ করা হয়েছিল তৃণমূল পরিচালিত খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতির চার কর্মাধ্যক্ষকে। মঙ্গলবার সেইসব কর্মাধ্যক্ষ পদে আনা হল নতুন মুখ।

খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে চার কর্মাধ্যক্ষের পদে নতুন মুখ
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: আগেই অনাস্থা এনে অপসারণ করা হয়েছিল তৃণমূল পরিচালিত খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতির চার কর্মাধ্যক্ষকে। মঙ্গলবার সেইসব কর্মাধ্যক্ষ পদে আনা হল নতুন মুখ। আরামবাগ মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে চার কর্মাধ্যক্ষ পদে নির্বাচন হয়। যদিও এদিন এই সভায় বিদায়ী কর্মাধ্যক্ষরা কেউ যাননি। ফলে নতুন কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে যাঁদের নাম প্রস্তাব করা হয়, তাঁদেরই সমর্থন করেন স্থায়ী সমিতির বাকি সদস্যরা। তবে এদিনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহকুমা শাসকের কার্যালয় চত্বরে ব্যাপক পুলিস মোতায়েন করা হয়। নির্বাচনপর্ব শেষ হতেই পুলিস দ্রুত চত্বর ফাঁকা করে দেয়। 
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে নতুন পূর্ত ও পরিবহণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ হয়েছেন আশিক ইকবাল। এছাড়া জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন মারুফা খাতুন, বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ হয়েছেন তাপস ঘোষ ও শিক্ষা স্থায়ী সমিতিতে এসেছেন দিলীপ মণ্ডল। 
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এদিন চার কর্মাধ্যক্ষ পদে নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট স্থায়ী সমিতির সদস্যারা একজন করেই নাম প্রস্তাব করেন। ফলে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁরাই কর্মাধ্যক্ষ হয়েছেন। 
উল্লেখ্য, খানাকুলে তৃণমূল নেতা নইমুল হক ওরফে রাঙার সঙ্গে দলের ব্লক সভাপতি দীপেন মাইতির দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। তার রেশ গিয়ে পড়ে পঞ্চায়েত সমিতির কাজকর্মেও। যদিও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
নইমুল সাহেব বলেন, চার কর্মাধ্যক্ষ পদে অপসারণ নিয়ে দলের অনুমোদন নেই। এটি দলবিরোধী কাজ হয়েছে। দলই পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে। বিদায়ী জন্যস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ শেখ নাজিমুদ্দিন বলেন, ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির যোগসাজশে আমাদের সরানো হয়েছে। কমিশন তুলতে আমরা পথের কাঁটা ছিলাম। তাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ব্লক সভাপতি বলেন, বিদায়ী পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ্যের দলবিরোধী নানা কার্যকলাপের নমুনা দলের কাছে রয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন সদস্যরা। তাই দলের সিদ্ধান্তমতোই তাঁদের অপসারণ করে নতুন কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন করা হয়েছে। নীতি ও নিষ্ঠার সঙ্গে দল না করলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়াই নিয়ম। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এবার থেকে পঞ্চায়েত সমিতি ভালোভাবেই চলবে। সকলের প্রতিই দলের নজর রয়েছে। 
প্রসঙ্গত, খানাকুল-১ পঞ্চায়েত সমিতিতে গত প্রায় এক বছর ধরে অচলাবস্থা চলছে। তার জেরে উন্নয়নের কাজে প্রভাব পড়ছে। সরকারি তহবিল খরচে জেলায় পিছিয়ে পড়েছে এই পঞ্চায়েত সমিতি। অর্থ স্থায়ী সমিতির বৈঠকও স্থগিত রয়েছে দীর্ঘদিন। তারই মধ্যে প্রথমে পূর্ত ও পরে বাকি তিন কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসেন সংশ্লিষ্ট স্থায়ী সমিতির বাকি সদস্যরা। প্রশাসনিক নিয়মে প্রথমে কর্মাধ্যক্ষদের অপসারণ করা হয়। তারপর এদিন নতুন কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ