Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খনিকে কেন্দ্র করে প্রচুর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

খনিকে কেন্দ্র করে প্রচুর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শুরুতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছিলেন, দেউচা-পাচামিকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক কর্মসংস্থান হবে। শ঩নিবার যেন তাতেই একপ্রকার সিলমোহর পড়ল। দেউচা-পাচামিতে খনন কাজ শুরু হতেই স্থানীয়রা উপার্জনের পথ খুঁজতে শুরু করেছেন। এদিন সকালেই এক ব্যক্তি প্রকল্প এলাকায় চা-জল ও বিস্কুটের দোকান খুলে বসেছেন। সকাল থেকে বিক্রিও শুরু হয়েছে। তাঁর ছেলেও সেই কাজে মন দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে আগামীতে একইভাবে ওই এলাকায় আরও নতুন নতুন কর্মসংস্থান হবে এবং উপার্জনের পথ খুলে যাবে। আখেরে স্থানীয়রাই লাভবান হবেন। ক্রমশ এলাকার অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে। অন্যদিকে, এদিনই প্রকল্প সংলগ্ন এলাকার প্রায় ২৫ জন স্থানীয় বাসিন্দাার হাতে চুক্তিভিত্তিক কাজের নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, ক্রমান্বয়ে সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। 
Advertisement
পিডিসিএলের সিএমডি মহম্মদ পি বি সেলিম বলেন, আরও লোকের দরকার হবে। যাঁরা যাঁরা কাজ করতে ইচ্ছুক, তাঁদের প্রত্যেকেই কোনও না কোনও কাজ পাবেন। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, কী ধরনের কাজ ও কীভাবে করবেন, তার জন্য তাঁদের সাতদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। 
বুধবার বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, বৃহস্পতিবার থেকেই কাজ শুরু হতে চলেছে। এরপরই জেলার প্রশাসনিক মহলে তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে লক্ষ্মীবারেই চাঁদা মৌজায় ১২ একর সরকারি জমির উপর প্রথমে ভূমিপুজো সম্পন্ন হয়। পরে রাতের দিকে প্রথম মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। সেই কাজ এখন জোর কদমে চলছে। ভূমিপুজোর দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখী হয়ে জেলাশাসক বিধান রায় এবং এসআরডিএ চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন, স্থানীয়রাই সেখানে কাজ পাবেন। সেই ঘোষণার পরই এদিন প্রায় পাঁচটি গ্রামের ২৫ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হল। তাঁরা মূলত ঠিকাদারের অধীনে চুক্তিভিত্তিতে প্রকল্পের কাজে যুক্ত হবেন। স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়রা যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত। পিডিসিএলের গেস্ট হাউসে এদিন সেই নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। পিডিসিএলের সিএমডি, জেলাশাসক, পুলিস সুপার সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, তাঁদের সাতদিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারপরই তাঁরা কাজে যোগ দেবেন। স্থানীয় কর্মীদের সংখ্যা আগামীতে ক্রমশ বাড়বে। 
একদিকে যখন প্রশাসনের তরফে চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ চলছে, তখনই প্রকল্প এলাকায় এক ব্যক্তি দোকান খুলে বসলেন। কাপাসডাঙার বাসিন্দা দশরথ বাইন একটি গাছতলায় অস্থায়ীভাবেই সেই দোকান শুরু করেছেন। সেই দোকানে চা-জল, বিস্কুট, চিপস থেকে শুরু করে নানা কিছু মিলছে। প্রকল্প এলাকায় মাত্র একটি দোকান। সকাল থেকেই ওই দোকানে বিক্রি শুরু হয়েছে। দশরথবাবুর ছেলেও দোকানের কাজে হাত লাগিয়েছে। একাদশের পড়ুয়া শুভজিত্ বাইন বলে, সকাল থেকেই বিক্রি শুরু হয়েছে। আয় খুব একটা মন্দ নয়। তাঁর আশা দিনে দিনে আয় বাড়বে। 
এদিকে চাকরি পেয়ে খুশি স্থানীয়রা। বিশ্বজিত্ ডোম বলেন, সাতদিনের প্রশিক্ষণ শেষে কাজ যোগ দেব। খুব ভালো লাগছে।   
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ