সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: খড়িবাড়িতে বেহাল রাজ্য সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতে খানাখন্দে ভরে থাকছে জল। এতে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে টোটো, বাইক। রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বৃহস্পতিবার খড়িবাড়ির কদমতলা মোড়ে দু’ঘণ্টা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। পরে খড়িবাড়ির বিডিও দীপ্তি সাউ এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। যদিও অন্দোলনের পর এদিন থেকেই রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, খড়িবাড়ি-ঘোষপুকুর রাজ্য সড়ক ২০২৩ সালে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় মেরামত করা হয়। তবে মেরামত হওয়ার পর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পুকুরের চেহারা নিয়েছে। এতে প্রায়দিনই ছোটবড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সমস্যা নিরাসনে একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। যারজন্য ক্ষোভ ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ সরকার বলেন, নিম্নমানের কাজের জেরেই রাস্তাটি একবছরের মধ্যে ভেঙে গিয়েছে। প্রতিমুহূতেই যানবাহন চলছে। ডাম্পার, লরি চলাচল করায় রাস্তাটি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে গিয়েছে। রাস্তা মেরামতের জন্য একাধিকবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও লাভ হয়নি। আরএক বাসিন্দা বিট্টু জয়সওয়াল বলেন, এই রাস্তা ঘেঁষে গ্রামীণ হাসপাতাল, দু’টি হাইস্কুল রয়েছে। অথচ রাস্তা মেরামত নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। গত এক সপ্তাহে তিনটি টোটো, একটি বাইক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। আমরা চাই, খড়িবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার হোক। বাধ্য হয়ে আমরা এদিন রাস্তা অবরোধ করি।
এদিন স্থানীয়দের বিক্ষোভ এতটাই জোরালো ছিল যে খড়িবাড়ি বিডিও দীপ্তি সাউ বাধ্য হয়ে ঘটনাস্থলে এসে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এনিয়ে খড়িবাড়ি বিডিও বলেন, রাস্তা সংস্কারের টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির জেরে মেরামতের কাজ করা যাচ্ছে না। এছাড়া এই রুটে ভারী যানবাহন চলাচল রুখতে পূর্তদপ্তরকে রাস্তায় হাইটবার দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ওভারলোডিং যানবাহন চলাচল নিয়ে ট্রাফিক পুলিশকে পদক্ষেপ করতে বলেছি। এদিন থেকেই সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে।